ভারতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টরন্টোর এক মা

ভারতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টরন্টোর এক মা - the Bengali Times
ভারতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টরন্টোর এক মা

অপহৃত ছেলের খোঁজে এ বছরের গোড়ার দিকে উত্তর ভারতে যাওয় টরন্টোর এক মা প্রায় পাঁচ মাস সেখানে কাটিয়ে দেন। অবশেষে ছেলেকে নিয়ে কানাডায় ফিরছেন ওই নারী। নর্থ ইয়র্কের বাসিন্দা ক্যামিলা ভিলাস বোয়াস তার চার বছরের ছেলেকে নিয়ে বুধবার রাতে ভারতের দিল্লি থেকে টরন্টোগামী ফ্লাইটে ওঠেন এবং বৃহস্পতিবার ভোরে পিয়ারসন ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বাবা কপিল সুনাকে সঙ্গে তার ছেলে ভারতের চ-িগড়ে আছে জানতে পেরে ৩১ জানুয়ারি বোয়াস সেখানে যান। সাবেক স্বামীর সঙ্গে তার ছেলে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতে যাওয়ার পর থেকে তিনি ছেলেকে আর দেখেননি। ওই বছরের ৮ আগস্ট দুজনের দেশে ফেরার কথা থাকলেও তারা ফেরেননি। এই অবস্থায় টরন্টো পুলিশ সার্ভিস গত বছরের অক্টোবরে অপহরণের অভিযোগে সুনাকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এই অভিযোগে এখনো তাকে খুঁজছে পুলিশ।

- Advertisement -

টরন্টো পুলিশ সার্ভিস এক ইমেইলে লিখেছে, কপিল সুনাক এখনো হয়তো ভারতে আছেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে নেই।

ছেলেকে আর ফেরত পাবেন না আশঙ্কা থেকে বোয়াস বিষয়টি নিজের হাতে তুলে নেন এবং ভ্যালেন্টিনোর অবস্থান জানতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নেন। সিপি২৪কে তিনি বলেন, সত্যি বলতে কী, আমান মনে হচ্ছিল আমি জীবিত নেই। আমার ছেলে বেঁচে আছে কিনা, সে ঘুমাচ্ছে কিনা, সে মার অভাব বোধ করছে কিনা, সে কোথায় আছে, কী করছেÑএসব ভেবে আমার অবস্থা হয়েছিল মৃতপ্রায়।

বোয়াস বলেন, নিজের চেষ্টায় তিনি ভ্যালেন্টিনো ও তার সাবেক স্বামীর অবস্থান জানতে পারেন। এরপর তিনি চণিন্ডগড়ের জন্য একটি বিমান টিকিট কেনেন। সেখানে পৌঁছানোর পর একজন আইনজীবীকে নিয়োগ করি। তিনিই তার সাবেক স্বামীকে আদালতে তুলতে সাহায্য করেন। তার বিরুদ্ধে শিশু অপহরণের অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগ আগেও কয়েকবার আনতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি।

১৮ জুলাইয়ের পর ৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের আদালতে ছেলেকে প্রথম দেখেন বোয়াস। ভ্যালেন্টিনোর মায়ের সঙ্গে মিলিত হওয়ার বিষয়টি সিপি২৪কে নিশ্চিত করেছে টরন্টো পুলিশ।

বোয়াস বলেন, ২২ এপ্রিল চ-িগড় হাইকোর্টের বিচারক সুনাকের প্রতি ভ্যালেন্টিনোকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। সেই সঙ্গে ভ্যালেন্টিনোকে কানাডায় প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন। পরদিনই শিশুটির বাবা তাকে আবারও অপহরণ করেন এবং পুলিশের ব্যাপক তল্লাশির পর ভ্যালেন্টিনোকে উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে তার সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভ্যালেন্টিনোকে এরপর ২৪ ঘণ্টা পুলিশ নজরদারিতে তার মায়েল জিম্মায় দেওয়া হয়। যদিও সন্তানের ক্ষতি এবং তার সাবেক স্বামী তাদের সন্তানকে যে আবারও অপহরণ করতে পারে এই আশঙ্কা সারাক্ষণ কাজ করত তার মধ্যে।

এর মধ্যেই সুনাক আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার ও তার ছেলের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। বোয়াস সিপি২৪কে বলেন, আমাদেরকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হয়নি পর্যন্ত। আমরা ভারতে একপ্রকার বন্দিই ছিলাম।

২২ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সুনাকের আপিল বাতিল করে দেয়। এর মধ্য দিয়ে ছেলেকে নিয়ে বোয়াসের দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়। বোয়াস বলেন, আদালতের ওই রায় কেবল আইনি জয় ছিল না, আমাদের দুঃস্বপ্নের অবসানেরও মুহূর্ত ছিল এটা।

এখন সময় ভ্যালেন্টিনোর তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles