আইন ফাঁকি দিয়ে সঙ্গী যখন র‌্যাকুন

আইন ফাঁকি দিয়ে সঙ্গী যখন র‌্যাকুন - the Bengali Times
গত সপ্তাহে জারি করা ওই পরোয়ানায় অভিযোগ করা হয় প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই বর্মন তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে একটি বন্য র‌্যাকুন রেখেছেন

কানাডার কুইবেক প্রদেশের মন্ট্রিয়লে পোষা র‌্যাকুন পিপারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক পরিস্থিতি। অনুমতি ছাড়া বন্য র‌্যাকুন নিজের অ্যাপার্টমেন্টে রাখার অভিযোগে লোকা বর্মনের বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করেছে প্রাদেশিক পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবে কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়েও প্রাণীটির সন্ধান পাননি। এরপর থেকে পিপার মন্ট্রিয়লের একটি পার্কে লুকিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্মন।

গত সপ্তাহে জারি করা ওই পরোয়ানায় অভিযোগ করা হয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই বর্মন তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে একটি বন্য র‌্যাকুন রেখেছেন। কর্তৃপক্ষের অভিযানের সময় পিপারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রাণীটিকে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বর্মন। তাঁর আশঙ্কা, পিপারকে আটক করার পর কর্তৃপক্ষ মেরে ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি কুইবেকে জলাতঙ্কের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বন্যপ্রাণী পরিবহনের ওপর আরোপিত আঞ্চলিক বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে পিপারের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে, তা নিশ্চিত নয়।

- Advertisement -

মন্ট্রিয়লের একটি পার্কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বর্মন জানান, র‌্যাকুনটির সঙ্গে তাঁর এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হবে, তা তিনি কখনো ভাবেননি। প্রাণীটিকে খাঁচায় দেখার পর সেটিকে মুক্ত করার অন্য কোনো উপায় থাকতে পারে বলে তাঁর মনে হয়েছিল। গত মে মাসে পিপার তাঁর জীবনে আসে। বর্মনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি র‌্যাকুনটিকে সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছিলেন। শেরব্রুকের কাছাকাছি একটি খামারের আশপাশে বেড়ে ওঠা বর্মন এর আগেও একটি র‌্যাকুন পুষেছিলেন। সেটি আরও পাঁচটি কুকুরের সঙ্গে থাকত।

পিপারের প্রতি এই টানই এখন তাঁকে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি করেছে। একদিকে প্রাণীটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দুইয়ের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজছেন তিনি। বর্মন জানিয়েছেন, পিপারের সর্বোত্তম কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তিনি প্রাণীটিকে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে রাজি আছেন। কিন্তু তাতে যে পিপারের ভালো হবে, সে বিষয়ে তাঁর আস্থা নেই। নিজের সম্ভাব্য আইনি পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন জানিয়ে বর্মন বলেন, পিপারকে ধরতে হলে তাঁকে অতিক্রম করেই ধরতে হবে। তাঁর এই অবস্থান থেকে প্রাণীটিকে রক্ষা করার বিষয়ে দৃঢ় মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।

পিপারকে ঘিরে ঘটনাটি কুইবেকে বন্যপ্রাণী পালন, প্রাণীর নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। র‌্যাকুন বন্যপ্রাণী হওয়ায় তাকে বাড়িতে রাখা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া কিংবা তার পরিচর্যা করার ক্ষেত্রে প্রাদেশিক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে জলাতঙ্কের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বন্যপ্রাণীর চলাচল ও ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কোনো প্রাণীকে উদ্ধার বা পরিচর্যা করার উদ্দেশ্য থাকলেও তা সংশ্লিষ্ট আইন ও অনুমোদনের আওতার বাইরে নাও থাকতে পারে।

তবে পিপারকে জব্দ করা হলে তার ভবিষ্যৎ কী হবে, কিংবা প্রাণীটিকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। আপাতত পিপার কোথায় রয়েছে, তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না এবং বর্মন শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাবেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। একটি পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের গভীর মমতা এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার আইনি বাধ্যবাধকতা এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই আটকে রয়েছে পিপারের ভবিষ্যৎ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles