
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও সহজ করতে টরন্টো পুলিশ সার্ভিস শহরে তাদের চতুর্থ কমিউনিটি সেফটি হাব চালু করেছে। নতুন এই হাবটি তৈরি হয়েছে ডাফেরিন মলে। পুলিশের দাবি, এটি মূলত এমন একটি উন্মুক্ত ও বলপ্রয়োগহীন যোগাযোগকেন্দ্র, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটি পরিষেবা ও সহায়তার বিষয়ে তথ্য পেতে পারবেন।
নতুন হাবটির মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় স্তরে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও বাড়ানো। এখানে বাসিন্দারা নেবারহুড কমিউনিটি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন এবং নিজেদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ কিংবা প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিষেবা সম্পর্কে সহায়তা নিতে পারবেন।
টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে কোনও এলাকার নির্দিষ্ট সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে কর্মকর্তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়। সেই অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। পুলিশের উপ-প্রধান লরেন পোগ জানিয়েছেন, কোনও এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ ও সরাসরি মেলামেশা পারস্পরিক আস্থা তৈরিতেও সাহায্য করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাফেরিন মলে নিয়মিত উপস্থিত থেকে কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যায় আগেভাগে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় সংগঠন ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়, অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ।
মলের ব্যস্ততম ফুড কোর্ট এলাকার কাছেই নতুন সেফটি হাবটি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিতভাবে ডাফেরিন গ্রোভ নেবারহুড কমিউনিটি কর্মকর্তারা থাকবেন। পাশাপাশি ১১ ডিভিশনের কর্মকর্তা এবং অক্সিলারি কর্মকর্তারাও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের উদ্যোগে এর আগে আরও তিনটি কমিউনিটি সেফটি হাব চালু করা হয়েছে। সেগুলির অবস্থান ফেয়ারভিউ মল, ডন মিলসের শপ এবং লরেন্স হাইটস নেবারহুডে। এই সেফটি হাবগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য হল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সহজ ও অনানুষ্ঠানিক একটি জায়গা দেওয়া। তবে এগুলি পুলিশের স্টেশনে যাওয়ার বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার বিকল্প হিসেবে নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহায়তার অতিরিক্ত একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।
১১ ডিভিশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অ্যান্ড্রু একলান্ডের দাবি, সেফটি হাব চালু হওয়ার পর ফেয়ারভিউ মল এবং ডন মিলসের শপ এলাকায় অপরাধ এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দাখিলের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুলিশের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

