শরনার্থীদের রেসিডেন্সি স্পন্সরশিপ থেকে অব্যাহতির অবসান

শরনার্থীদের রেসিডেন্সি স্পন্সরশিপ থেকে অব্যাহতির অবসান - the Bengali Times
২০১৯ সালে কানাডা সরকার একটি অস্থায়ী নীতি চালু করে এর আওতায় শরণার্থী হিসেবে আবেদন করার সময় মূল আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি এমন কিছু পরিবারের সদস্যকেও পরবর্তীতে স্পন্সর করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল

কানাডায় শরণার্থী হিসেবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য পরিবারের কিছু সদস্যকে স্পন্সর করার ক্ষেত্রে যে বিশেষ ছাড় চালু ছিল, তা এবার শেষ হতে চলেছে। ২০১৯ সালে সাময়িকভাবে চালু হওয়া এই নীতির মেয়াদ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। এর ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রাথমিক আবেদনে উল্লেখ না থাকা পরিবারের সদস্যদের স্পন্সর করার যে সুযোগ এতদিন ছিল, সেটি আর থাকবে না। কানাডার অভিবাসন বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সততা ও স্বচ্ছতা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণেই এই বিশেষ সুবিধা আর বহাল রাখা হচ্ছে না।

২০১৯ সালে কানাডা সরকার একটি অস্থায়ী নীতি চালু করে। এর আওতায় শরণার্থী হিসেবে আবেদন করার সময় মূল আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি এমন কিছু পরিবারের সদস্যকেও পরবর্তীতে স্পন্সর করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই সুবিধার আওতায় এমন সন্তানও পড়ত, যারা পরিবারের মূল শরণার্থী আবেদন জমা দেওয়ার পর জন্মেছে। নীতিটি পরবর্তীতে একাধিকবার বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে এবার সেই মেয়াদ আর বাড়ানো হচ্ছে না।

- Advertisement -

বিশেষ এই ছাড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন অবশ্য নতুন নয়। প্রায় তিন বছর আগে তৎকালীন অভিবাসনমন্ত্রীর জন্য তৈরি করা একটি খসড়া মেমোতে এই নীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, পরিবারের সদস্যদের স্পন্সর করার এই ছাড় কানাডার অভিবাসন কর্মসূচির স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ঝুঁকি তৈরি করছে। ওই খসড়া মেমোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, এই বিশেষ নীতির আওতায় প্রায় ২,০০০টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল।

কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য শরণার্থী আবেদনকারীদের তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে সরকারকে তথ্য দিতে হয়। পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্য কানাডায় আসবেন কি না, সেটি এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিরাপত্তা ও মেডিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের তালিকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, আবেদনকারীর স্ত্রী বা স্বামী, সন্তানসহ সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের তথ্য প্রাথমিক আবেদনেই জানাতে হয়। এই প্রাথমিক তালিকায় কোনো পরিবারের সদস্যের নাম বাদ পড়ে গেলে সাধারণ নিয়মে পরবর্তীতে তাঁকে স্পন্সর করার সুযোগ থাকে না। ২০১৯ সালের অস্থায়ী নীতিটি মূলত এই নিয়মের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একটি ব্যতিক্রম তৈরি করেছিল।

১০ সেপ্টেম্বর বিশেষ নীতিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের নিয়মই কার্যকর হবে। ফলে প্রাথমিক শরণার্থী আবেদনে পরিবারের সদস্যদের তথ্য দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যকে কানাডায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করার সময় সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া জরুরি। নতুন নীতিগত পরিবর্তনের ফলে পুরনো বিশেষ ছাড়ের ওপর নির্ভর করে করা স্পন্সরশিপের সুযোগ আর আগের মতো থাকবে না।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles