
অফিসের কাজ শেষ হলেই কাজের ফোনটি এক পাশে রেখে ব্যক্তিগত জীবনে মন দেওয়ার সুযোগ শুনতে বেশ স্বস্তিদায়ক। কিন্তু বাস্তবে দুটি ফোন ব্যবহারের অভ্যাস অনেকের কাছেই হয়ে উঠতে পারে বাড়তি ঝক্কি। কারণ, কর্মক্ষেত্রের ফোন আলাদা রাখলে একই সময়ে ব্যক্তিগত ও অফিসের দুই ডিভাইসই সঙ্গে রাখতে হয়। ফলে এক ফোনে সন্তানের ডে-কেয়ার থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেখতে হচ্ছে, আবার অন্য ফোনে সামলাতে হচ্ছে অফিসের কল বা গ্রাহকের যোগাযোগ। কাজের জন্য আলাদা ফোন ব্যবহার করা উচিত কি না, তার কোনও একক উত্তর নেই। বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশা, জীবনযাপন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তার নীতির ওপর।
ব্যাংকিং বা স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে কর্মীদের হাতে থাকা তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আইনি প্রতিষ্ঠান স্প্রিং ল-এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার ও কর্ণধার লিসা স্ট্যামের মতে, তথ্য সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই ধরনের পেশায় কর্মীরা অনেক সময় কাজ ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আলাদা ডিভাইস রাখেন। অন্যদিকে, ছোট ব্যবসা বা তুলনামূলক কম সংবেদনশীল কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের নিজেদের ফোনই অফিসের কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই ‘নিজের ফোন আনুন’ নীতি গ্রহণ করছে। অর্থাৎ, কর্মী নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই অফিসের প্রয়োজনীয় কাজ করবেন। স্ট্যামের মতে, এমন নীতি চালু করার আগে নিয়োগদাতাদের বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া প্রয়োজন। কর্মীর ব্যক্তিগত ফোনে অফিসের তথ্য ব্যবহৃত হলে সেই তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, প্রতিষ্ঠান কোন পরিস্থিতিতে ফোনের কাজ-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং কর্মী চাকরি ছাড়ার পর কী হবে এসব বিষয়ে পরিষ্কার নিয়ম থাকা দরকার। এ ক্ষেত্রে কর্মীর ব্যক্তিগত ফোনের খরচের একটি অংশ নিয়োগদাতা বহন করবেন কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
দুটি ফোন বহন করার ঝামেলা কমাতে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন এবং ‘রিং-ফেন্সিং’-এর মতো ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীর ব্যক্তিগত ফোনে থাকা কাজের অ্যাপ ও তথ্যকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের অংশ থেকে আলাদা রাখা যায়। ফলে একই ডিভাইসে অফিসের কাজ করলেও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর অতিরিক্ত সুরক্ষা বজায় থাকে। কিছু ব্যবস্থায় কর্মী চাকরি ছেড়ে দিলে বা ডিভাইস হারিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠান দূর থেকেই ফোনের কাজ-সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হলে এতে কর্মীর ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য মুছে যাওয়ার কথা নয়।
কাজের ফোন আলাদা রাখবেন, নাকি ব্যক্তিগত ফোনেই অফিসের কাজ করবেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মূলত তিনটি বিষয় দেখা দরকার: পেশার ধরন, ব্যক্তিগত সুবিধা এবং প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষা নীতি। যাঁদের কাজে অত্যন্ত সংবেদনশীল গ্রাহক বা রোগীর তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা ডিভাইস বা কঠোর তথ্য-বিচ্ছিন্নতার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আবার অন্য অনেক কর্মীর জন্য একটি ফোনেই ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজ পরিচালনা করা তুলনামূলক সহজ।
তবে যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দুটির সুরক্ষাই নিশ্চিত করা জরুরি। প্রযুক্তির সাহায্যে এখন একই ফোনে দুই ধরনের কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হলেও, তার জন্য স্পষ্ট নীতি ও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

