প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে গ্যাংস্টারের, পাহারায় ছিল পুলিশ

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে গ্যাংস্টারের, পাহারায় ছিল পুলিশ - the Bengali Times
ভারতের হরিয়ানার কুখ্যাত অপরাধী মাইনপাল ধিল্লা তাঁর ৩৭ বছর বয়সী কম্বোডিয়ান প্রেমিকা মেটাকে বিয়ে করেছেন মাত্র ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে

মণ্ডপে চলছে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিত মন্ত্র পড়ছেন, জ্বলছে যজ্ঞের আগুন। কনে সাজে বসে আছেন প্রেমিকা। পাশে বর। তবে এই বিয়ের দৃশ্য আর দশটি বিয়ের মতো ছিল না। কারণ, বরের দুই হাতে তখনো হাতকড়া, আর মণ্ডপের চারপাশে পাহারায় ছিলেন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা।

ভারতের হরিয়ানার কুখ্যাত অপরাধী মাইনপাল ধিল্লা তাঁর ৩৭ বছর বয়সী কম্বোডিয়ান প্রেমিকা মেটাকে বিয়ে করেছেন মাত্র ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাঁকে বিয়ের জন্য কারাগার থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

- Advertisement -

বিয়ের সময় ধিল্লার দুই হাত কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। ধারণা করা হয়, হাতকড়া আড়াল করতেই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে মাঝে মাঝে কাপড়ের ফাঁক দিয়ে হাতকড়ার ধাতব অংশ দেখা যাচ্ছিল।

মণ্ডপ ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। প্রায় ১৫ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক পাহারায় ছিলেন। বরপক্ষের নারী আত্মীয়দের সঙ্গে নারী পুলিশ সদস্যদের কথাবার্তা বলতেও দেখা যায়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পুলিশের নজর ছিল বরের ওপর।

কনের সঙ্গে ছিলেন তাঁর তিন সন্তান। বিয়ের পুরো আয়োজনেই সন্তানদের সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন মেটা। একপর্যায়ে কান্নাকাটি করা এক সন্তানকে মুঠোফোনে ভিডিও দেখিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।

মাইনপাল ধিল্লার অপরাধজীবনের শুরু ২০০০ সালে। গ্রামের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি তাঁর চাচা হেমচন্দ্রকে হত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মামা ওমপ্রকাশকেও হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি এলাকার কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে পরিচিতি পান।

হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ২২টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি।

তবে কারাগারের কঠোর বাস্তবতার মধ্যেও প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ের সুযোগ পেয়েছেন ধিল্লা। বিয়ের জন্য পাওয়া ১২ ঘণ্টার সময়টুকু শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়াই ছিল পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।

ফলে বিয়ের মণ্ডপে যখন নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি চলছিল, তখন চারপাশে ছিল বন্দুকধারী পুলিশের কড়া পাহারা। আর বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই নববধূকে রেখে বরকে ফিরতে হয়েছে তাঁর পুরোনো ঠিকানায়—কারাগারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles