
একসময় ঘরে খাবার ছিল না, নিয়মিত পানি পাওয়াও ছিল কঠিন। ক্ষুধার তাড়নায় পার্কে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। সেই চরম অভাবের দিন পেরিয়ে আজ তাঁরা দুজনই চিকিৎসক। শুধু তা-ই নয়, শৈশবের সেই শহরেই এখন পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের শিপেনহ্যামস হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সহপরিচালক হিসেবে কাজ করছেন যমজ ভাই ট্রাভান ও ট্রাভিস জ্যাসপার। অথচ প্রায় চার দশক আগে এই শহরেই তাঁদের জীবন কেটেছে অভাব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
শৈশবের কথা মনে করে ট্রাভান বলেন, তাঁদের নিয়মিত পানি পর্যন্ত মিলত না। পার্কে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতেন তাঁরা। খাবারের জন্য যেমন ক্ষুধার্ত ছিলেন, তেমনি সফল হওয়ার জন্যও তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। কারণ, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হিসেবে তাঁরা সাফল্যকেই দেখেছিলেন।
তাঁদের জীবনের মোড় ঘুরে যায় এক বেদনাদায়ক ঘটনায়। মাদকাসক্ত চাচা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ছোট্ট বয়সে তাঁরা তাঁকে দেখতে যান। সেখানে চিকিৎসকের আচরণ তাঁদের মনে গভীর দাগ কাটে। চাচার প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে চিকিৎসকের একটি মন্তব্য দুই ভাইকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।
হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে তাঁরা তখন সিদ্ধান্ত নেন—একদিন তাঁরা নিজেরাই চিকিৎসক হবেন। আর যে চিকিৎসক তাঁদের চাচার সঙ্গে এমন আচরণ করেছিলেন, তাঁর চেয়ে ভালো চিকিৎসক হওয়ার চেষ্টা করবেন।
সেই প্রতিজ্ঞা পূরণে অবিচল থাকেন দুই ভাই। উচ্চবিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও তাঁরা সেরা শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন।
চার দশক পর তাঁরা ফিরে এসেছেন সেই রিচমন্ডেই। তবে এবার আর অভাবের শিকার হয়ে নয়—মানুষের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব নিয়ে।
শিপেনহ্যামস হাসপাতালের প্রধান নির্বাহীর ভাষায়, ট্রাভান ও ট্রাভিসের দক্ষতা হাসপাতালের জন্য বড় সম্পদ। চিকিৎসাসেবায় উৎকর্ষ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতিশীলতার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার রোগীদের জরুরি মুহূর্তে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিজেদের জীবনের কঠিন সময়গুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে ট্রাভিস বলেন, জীবনে তাঁরা যা যা সহ্য করেছেন, সেসব অভিজ্ঞতাই তাঁদের আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
একসময় যে শহরে খাবার ও পানির জন্য লড়াই করতে হয়েছে, আজ সেই শহরেই অসহায় মানুষের জীবন বাঁচানোর দায়িত্বে দুই ভাই। তাঁদের গল্প যেন প্রমাণ করে—অভাব পথ আটকে দিতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন আর অধ্যবসায়ের কাছে সেই বাধাও একদিন হার মানে।

