‘শয়তানের’ আঘাতে ২ মাসের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার বাবা-মা

‘শয়তানের’ আঘাতে ২ মাসের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার বাবা-মা - the Bengali Times
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির মাথা ও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি মাথার খুলির বিভিন্ন অংশে ভাঙা হাড় পাওয়া গেছে।

পুলিশের দাবি, শিশুটির বাবা অস্কার পিনেদা তদন্তকারীদের বলেছেন, ‘শয়তান দরজা দিয়ে শিশুটিকে আঘাত করেছে।’ তবে তদন্তকারীরা তার এই বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। শিশুটির শরীরে পাওয়া আঘাতের ধরন ও মাত্রা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

- Advertisement -

২১ বছর বয়সী অস্কার পিনেদা এবং তার স্ত্রী কাতেরিন মোনসন-আলভারাদোর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, হামলা ও বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে তাদের সর্বোচ্চ ৫৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগ আরও গুরুতর হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার শিশুটিকে বাল্টিমোরের হারবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন তার দুই চোখ ও চোয়ালের আশপাশে গুরুতর কালশিটে দাগ ছিল। চিকিৎসকেরা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। পরে শিশুটির মাথা ও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত, মাথার খুলির একাধিক স্থানে ভাঙা এবং মস্তিষ্কের সামনের অংশে রক্তক্ষরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

তদন্তে বাবা-মায়ের বক্তব্যেও অসংগতি পাওয়া গেছে। শিশুটির মা প্রথমে জানান, খাবার খাওয়ানোর পর তাকে বিছানায় উপুড় করে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি দাবি করেন, তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে বিছানায় লাফালাফি করায় শিশুটি মেঝেতে পড়ে যায়।

তবে প্রসিকিউটররা বলছেন, শিশুটির শরীরে যে ধরনের গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে, তা শুধু একবার বিছানা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে মনে হয় না।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, ৬ সেপ্টেম্বর শিশুটির শরীরে কালশিটে দাগ দেখতে পেয়েছিলেন বাবা-মা। পরদিন শিশুটি বমি করলেও তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি। বুধবার শিশুটি সাড়া দেওয়া বন্ধ করার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশের অভিযোগ, শিশুটির শরীরে আগেই আঘাতের চিহ্ন দেখা গেলেও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

অস্কার পিনেদা ও কাতেরিন মোনসন-আলভারাদো দুজনই গুয়াতেমালার নাগরিক। প্রসিকিউটররা তাদের জামিন না দেওয়ার আবেদন করেন। আদালত তাদের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles