
জাপানের জনপ্রিয় পর্ন তারকা হানা কুরাকি মারা গেছেন মাত্র ২৫ বছর বয়সে। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী টোকিওর কাবুকিচো এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জাপানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে দ্য টোকিও রিপোর্টার জানিয়েছে, কাবুকিচো টোকিওর অন্যতম পরিচিত বিনোদন ও প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনকেন্দ্রিক এলাকা। সেখানে একটি বারের মালিকের অ্যাপার্টমেন্টে কুরাকিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তার এক বন্ধু। পরে বিষয়টি বারের মালিক সাকিতোকে জানানো হয়।
কুরাকির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন সাকিতো। সেখানে তিনি জানান, এই মৃত্যুর খবর তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, সাকিতো নিজেই কুরাকির মরদেহ দেখতে পান। তবে সেই দাবি নাকচ করে তিনি জানান, কুরাকির এক বন্ধুই প্রথম তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং টোকিও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করেন।
সাকিতোর দাবি, কুরাকি তার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সমস্যার কথা শেয়ার করেছিলেন। তবে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুজব, ভুল তথ্য ও অনুমান ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ভুল তথ্য বা অনুমানের কারণে মৃত কুরাকি কিংবা তার আশপাশের মানুষের যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়। একই সঙ্গে এমন একটি সমাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে বা তাকে মরিয়া পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হবে না।
২০২৪ সালে প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন জগতে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হানা কুরাকি। চলতি বছরের শেষ দিকে তাইওয়ানে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন প্রদর্শনীতেও তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
তবে গত জুনে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মুখ ও চোয়ালে আঘাত পাওয়ার পর সাময়িকভাবে কাজ থেকে বিরতির ঘোষণা দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কুরাকি জানিয়েছিলেন, কিছু সময়ের জন্য নিজের কার্যক্রম স্থগিত রাখছেন।
পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শুটিংয়ে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন কুরাকি।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে জাপানের প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

