সাগর-রুনী হত্যার দুই দিন আগে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে নেওয়া হয় দুটি সিডি, কী ছিল এতে?

সাগর-রুনী হত্যার দুই দিন আগে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে নেওয়া হয় দুটি সিডি, কী ছিল এতে? - the Bengali Times
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুটি সিডি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুটি সিডি। হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার নির্দেশে তার এক সহকারী দুটি সিডি নিয়ে গিয়েছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ওই কর্মকর্তার নির্দেশে একজন সার্জেন্ট রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে সিডি দুটি সংগ্রহ করেন। এর ঠিক দুই দিন পর, ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনী।

- Advertisement -

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সিডি দুটিতে কী ছিল?

তদন্তসংশ্লিষ্টরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি, ওই দুটি সিডিতে কী ধরনের তথ্য, নথি বা ভিডিও সংরক্ষিত ছিল। তবে তদন্তকারীদের একটি ধারণা, এতে তৎকালীন বিডিআর হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত কোনো তথ্য, তথ্যচিত্র বা গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকতে পারে। সিডি সংগ্রহের ঘটনার সঙ্গে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

সম্প্রতি অন্য একটি মামলার তদন্তে কলের তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রোকেয়া প্রাচীর যোগাযোগের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তকারীরা সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় যাচাই করবেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাঁদের যোগাযোগের সঙ্গে সাংবাদিক দম্পতি হত্যার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিখোঁজ ল্যাপটপ ও মোবাইল

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তদন্তে আলোচনায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত। হত্যার পর সাগর ও রুনীর দুটি ল্যাপটপ এবং সাগরের মুঠোফোন নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব যন্ত্রের কোনোটি উদ্ধার হয়নি।

অন্যদিকে, রুনীর মুঠোফোন এবং বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার অক্ষত ছিল। ফলে হত্যার উদ্দেশ্য ও ঘটনাটির সঙ্গে নিখোঁজ যন্ত্রগুলোর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন তথ্য সামনে আসার পর এসব বিষয়ও আবার পর্যালোচনার আওতায় আসছে।

তবে রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিডি সংগ্রহ, যোগাযোগের তথ্য, নিখোঁজ ল্যাপটপ ও মুঠোফোনসহ প্রতিটি বিষয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্যগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বর্তমানে সাগর-রুনী হত্যা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, অন্য মামলার তদন্তে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত যেসব নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles