
কুইবেকজুড়ে চলছে প্রাইড মাস উদযাপন। এরই মধ্যে শরতের প্রাদেশিক নির্বাচনকে সামনে রেখে যৌন ও লিঙ্গ-বৈচিত্র্যের প্রার্থীদের লক্ষ্য করে অনলাইনে ঘৃণাত্মক বার্তা ও হুমকি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
কুইবেক সলিডেয়ার-এর দাবি, দলের এলজিবিটিকিউ+ প্রার্থীদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে পরিমাণ বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং ট্রোলিং হচ্ছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছেছে।
দলের প্রেসিডেন্ট রোক্সান মিলট বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে তারা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। মন্ট্রিয়লের একটি রাইডিং থেকে নির্বাচনে লড়াই করতে চলা মিলট নিজেও সম্প্রতি অনলাইনে ঘৃণাত্মক বার্তার শিকার হয়েছেন বলে জানান। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ও নেতাদেরও এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেদের বক্তব্য এবং ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া দরকার।
বাইসেক্সুয়াল হিসেবে পরিচিত মিলটের আশঙ্কা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অনলাইন আক্রমণ অনেককেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, নারী ও কুইয়ার সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় পরিচয়ের মানুষের ক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রার্থী হতে রাজি করানো এমনিতেই কঠিন। তার ওপর যদি নিয়মিত অনলাইন হেনস্থা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে রাজনৈতিক পরিসরে তাদের অংশগ্রহণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
মিলট জানান, এলজিবিটিকিউ+ সংগঠনগুলোর সঙ্গেও তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সেই সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও কুইবেকে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে বলে তাঁর দাবি।
এদিকে, সম্প্রতি এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় থেকে আসা পার্টি কুইবেকোর প্রার্থী ভ্যানেসা ডুরান্ড নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। দলের সমর্থকদের একাংশের কাছ থেকে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য পাওয়ার পরই তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বলে জানা যায়। কানাডিয়ান প্রেস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ডুরান্ড এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে পার্টি কুইবেকোর প্রার্থী হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করা ফিলিপ শ্নবও নিয়মিত ঘৃণাত্মক বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সেই বার্তাগুলোর কিছু সরাসরি হুমকির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রাইড মাসের আবহে এমন ঘটনায় কুইবেকের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে যৌন ও লিঙ্গ-বৈচিত্র্যের মানুষদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শুধু প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, তাঁদের নিরাপত্তা ও অনলাইন হয়রানি থেকে সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

