
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের প্রস্তাবিত তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কানাডার একাধিক আইনজীবী ও অধিকার সংগঠন। বিশেষ করে সরকারি নথির সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট কিছু নথি নাগরিকদের নাগালের বাইরে রাখার প্রস্তাব নিয়েই আপত্তি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এর ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় নিয়মিত তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেন আইনজীবী অ্যান্ড্রু কোলটান। তাঁর মতে, আইনের আওতা থেকে নির্দিষ্ট ধরনের রেকর্ড বাদ দেওয়ার উদ্যোগ আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোলটানের বক্তব্য, শুধু কোনো সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফল জানলেই পুরো বিষয়টি বোঝা যায় না। সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, তার পেছনে কী আলোচনা হয়েছে এবং কোন তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর এ ধরনের তথ্য অনেক সময় ইমেইল, অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ থেকেই পাওয়া সম্ভব।
সরকারের প্রস্তাবে কোন ধরনের নথিকে সরকারি রেকর্ড হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোন নথি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় থাকবে, তার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোলটানের মতে, এই সংজ্ঞা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে উঠতে পারে। কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন লয়ার্স’ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে তিনি নিজের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সরকারি কর্তৃপক্ষের আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে নিয়মিত এই আইনের সাহায্য নেন।
পরিবেশগত সংগঠনগুলোর মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কুইবেক এনভায়রনমেন্টাল ল সেন্টারের অ্যাটর্নি সেলেস্টে ব্রাজো হাউলেন মনে করেন, কোনো নথি সাময়িক বা ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতির এই যুক্তিতে সেটির নাগাল সীমিত করার সুযোগ তৈরি হলে স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁর মতে, সরকারি সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা তথ্যের গুরুত্ব শুধু নথিটির স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে না। অনেক সময় সাময়িক ইমেইল, বার্তা বা আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে, যা পরে কোনো সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
আইনজীবী ও পরিবেশ এবং অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর জনসাধারণের নজরদারি ও জবাবদিহির সুযোগ কমতে পারে। ফলে সংশোধনী চূড়ান্ত করার আগে স্বচ্ছতা এবং তথ্য পাওয়ার অধিকারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

