কার্নির প্রতি মেরুদন্ড সোজা রাখার আহ্বান কনজার্ভেটিভদের

কার্নির প্রতি মেরুদন্ড সোজা রাখার আহ্বান কনজার্ভেটিভদের - the Bengali Times
১৯ আগস্টকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে দর কষাকষি আরও তীব্র হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটনে ফিরছে কানাডার শীর্ষ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। তবে আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে সতর্ক করে বিরোধী কনজার্ভেটিভ পার্টি বলেছে, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিনিময়ে কানাডার সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা উচিত হবে না।

১৯ আগস্টকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে দর-কষাকষি আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিপুল পরিমাণ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকরের হুমকি দিয়েছেন। ফলে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লাব্লাঁ এবং প্রধান আলোচক জ্যানিস শ্যারেট চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। লাব্লাঁর মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল ব্রানেট বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে কানাডার প্রতিনিধিদল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছে।

আলোচনায় নতুন করে আরোপের হুমকি দেওয়া শুল্কের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের ওপর বিদ্যমান শুল্ক এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তি বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রানেটের বক্তব্য, কানাডা ‘টিম কানাডা’ পদ্ধতিতে এগোচ্ছে। অর্থাৎ, দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো চুক্তি নিশ্চিত করতে প্রদেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে কড়া বার্তা দিয়েছে বিরোধী কনজার্ভেটিভ পার্টি। দলের নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর এবং কানাডা-ইউএস রিলেশনস ক্রিটিক শুভলয় মজুমদার সোমবার কার্নিকে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় কার্নি সরকার বারবার ছাড় দিয়েছে।

চিঠিতে ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স বাতিল, কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার এবং সম্প্রতি চালু হওয়া গোর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ থেকে অর্জিত নিট রাজস্বের অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগির মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। কনজার্ভেটিভ নেতাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক এবং বাণিজ্য চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ‘যে কোনও মূল্যে’ চুক্তি করা উচিত নয়। তাদের মতে, খারাপ চুক্তি করার চেয়ে কোনও চুক্তি না করাই ভালো। তারা আরও সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও আন্তঃসীমান্ত সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল কানাডার উৎপাদনমুখী শহরগুলোতে নতুন শুল্কের প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি পরিবারগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।

চিঠির শেষাংশে কনজার্ভেটিভ নেতারা বলেন, কানাডীয়দের এমন একটি সরকার প্রয়োজন, যে সরকার দেশের কর্মী, পরিবার এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় দৃঢ়ভাবে লড়বে। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কানাডার আসন্ন আলোচনা শুধু শুল্ক কমানো বা বাণিজ্য চুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আলোচনার টেবিলে এখন কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং সার্বভৌমত্ব সবকিছুর ভারসাম্য রক্ষা করাই কার্নি সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles