
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উত্তর আমেরিকায় হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জনসংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও কানাডায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাই পর্যন্ত আমেরিকা অঞ্চলে মোট ৪৭ হাজার ৪৫৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। গত বছরের একই অঞ্চলের মোট সংক্রমণের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিন গুণ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৬০ জন। বিপরীতে কানাডায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১০৭ জন। অর্থাৎ, জনসংখ্যার অনুপাতে কানাডায় সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আমেরিকা অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই গুয়াতেমালা ও মেক্সিকোর বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাকরণ, রোগ শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয় প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের মূখ্য ব্যবস্থাপক ড্যানিয়েল সালাস জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। তাঁর বক্তব্য, পর্যাপ্ত হারে টিকাকরণ, দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের মধ্যে সংক্রমণের শৃঙ্খল দ্রুত ভেঙে দেওয়া এই তিনটি পদক্ষেপই রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর।
বিশেষ করে শিশু, কম টিকাকরণ হয়েছে এমন জনগোষ্ঠী এবং যেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ সীমিত, সেই সব এলাকায় টিকাকরণের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন। সংস্থাটির মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে হামের সবচেয়ে বড় সংক্রমণের মুখোমুখি হয়েছে। শুধু আমেরিকা অঞ্চল নয়, বিশ্বজুড়েও পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জুলাই পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও টিকাকরণের মাধ্যমে তা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই সংক্রমণ বাড়ার এই প্রবণতা রুখতে নিয়মিত টিকাকরণ এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণকেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি।

