
বরিশালের মুলাদীতে কৃষক স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামী হারুন হাওলাদারকে (৫৯) কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে রান্নাঘরের পাশে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে স্বামীকে অপহরণের নাটক সাজানো হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর সেলিনা বেগম নিজের ছেলেকে বাদী করে থানায় অপহরণ মামলা করান। ওই মামলায় তিনি নিজেই প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
নিহত হারুন হাওলাদার মুলাদী উপজেলার চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। গত সোমবার দুপুরে তাঁর বাড়ির রান্নাঘরের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হন। পরে তাঁর স্ত্রী দাবি করেন, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি হাত ও চোখ বেঁধে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে ছেলে জাফর হাওলাদার ঢাকা থেকে এসে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
তবে ঘটনার পর থেকেই সেলিনা বেগমের আচরণ নিয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর রাতে তিনি ঘরের মেঝেতে নতুন করে কাদামাটি দিয়ে প্রলেপ দেন।
সোমবার সকালে স্থানীয়রা হারুন হাওলাদারের সন্ধানে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রান্নাঘরের পাশে নতুন মাটির নিচে একটি আঙুল দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিনা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে করা অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, বিশেষ করে কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

