
প্রেম যে সীমানা মানে না, তারই এক করুণ উদাহরণ গুজরাতের তরুণ প্যাটেল ও বাংলাদেশের কাজলের গল্প। ফেসবুকে পরিচয়, ভালোবাসা এবং পরে বিয়ে—সব মিলিয়ে তাদের জীবন চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু একটি ফোনকল বদলে দিয়েছে পুরো পরিবারের বাস্তবতা।
২০১২ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় গুজরাতের আনন্দ জেলার তরুণ প্যাটেল ও বাংলাদেশের গোপালপুরের কাজলের। বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্ক, এরপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। কাজল ভারতে গিয়ে তরুণকে বিয়ে করেন এবং নতুন জীবন শুরু করেন।
কিন্তু চলতি বছরের ২ জুন কাজলের মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার একটি কল পুলিশের নজরে আসে। তদন্তে জানা যায়, কাজল ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন। এরপর তাকে আটক করে নারী সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়।
তরুণ জানান, কাজল শুধু অসুস্থ মায়ের খোঁজ নিতে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, ওই একটি ফোনকলই তাদের জীবনে বড় সংকট তৈরি করেছে।
তরুণ ও কাজলের দুই সন্তান রয়েছে। মায়ের অনুপস্থিতিতে তারা প্রতিদিন কান্না করছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তরুণ এখন আইনি লড়াই করে স্ত্রীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কাজলের শাশুড়ি ইন্দুবেন বলেন, কাজল শুধু পুত্রবধূ ছিলেন না, পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন।
আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ভারতে বসবাস ও বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আইনি পথে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
একটি ফোনকল যেখানে ছিল মায়ের খোঁজ নেওয়ার মানবিকতা, সেই ফোনকলই এখন একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

