বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের চিত্র, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের দিকে?

বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের চিত্র, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের দিকে? - the Bengali Times
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে ঘিরে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুরুতে সামরিক উদ্যোগের দিক থেকে প্রাধান্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–এর হাতে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী সম্প্রতি দাবি করেছেন, “যুদ্ধের শেষ আমাদের হাতেই।” তার এই বক্তব্যকে অনেকে ইরানের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

- Advertisement -

সংঘাতের শুরুর দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। তারা উন্নত প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালেও সেগুলোর অনেকটাই প্রতিহত করা হয়।

তবে পরিস্থিতির বড় মোড় আসে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম বাড়া এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার মধ্য দিয়েই এই সংঘাতের সমাপ্তি চান তিনি। তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম–এর অধ্যাপক ড্যানি অরবাখ মনে করেন, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতেই রয়েছে—কারণ তারাই মূল কৌশল নির্ধারণ করছে।

অন্যদিকে কিংস কলেজ লন্ডন–এর অধ্যাপক পিটার নিউম্যান ভিন্ন মত দিয়েছেন। তার মতে, প্রতিকূল অবস্থান থেকেও ইরান পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে এবং বর্তমানে সংঘাতের গতিপথে তাদের প্রভাব বাড়ছে।

এদিকে হিজবুল্লাহ–এর সক্রিয়তা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। লেবানন সীমান্তে হামলা-পাল্টা হামলায় হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে—তা নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার: সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই এর প্রভাব আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles