তিন ‘ভয়ংকর’ মিসাইল দিয়ে ২২তম ধাপে ইরানি হামলা

তিন ‘ভয়ংকর’ মিসাইল দিয়ে ২২তম ধাপে ইরানি হামলা - the Bengali Times
সংগৃহীত ছবি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) শুক্রবার দুপুরে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ২২তম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ‘ইয়া হোসেন ইবনে আলী (আ.)’ সাংকেতিক কোড ব্যবহার করে চালানো এই অভিযানে খুররামশাহর ৪, খাইবার এবং ফাত্তাহর মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের সপ্তম দিনে এসে পারস্য উপসাগর থেকে তেল আবিব পর্যন্ত বিস্তৃত শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে।

আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা মূলত মিনাব শহরের স্কুলে ইরানি শিশুদের ওপর চালানো বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ। বিশেষ করে ‘খুররামশাহর ৪’ নামক অতি-ভারী ক্ষেপণাস্ত্রটি ২ টন ওজনের যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে ম্যাক ১৪-এর বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর এবং হাইফার সামরিক কেন্দ্রসহ শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে ইরান।

- Advertisement -

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সফলতার দাবি করে এক সিনিয়র আইআরজিসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান মূলত ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তৈরি করা পুরনো প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান এখনো তার সেরা এবং নতুন প্রজন্মের অস্ত্রগুলো বড় পরিসরে মোতায়েন করেনি। আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে ইরান আরও উন্নত ও দূরপাল্লার মারণাস্ত্র ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে বলে ওই কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি জানিয়েছেন, যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আগ্রাসনকারীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, শত্রুরা এখনো ইরানের প্রকৃত সামরিক উদ্ভাবন ও নতুন মারণাস্ত্রের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারছে না। প্রতিটি নতুন ধাপের অপারেশনে প্রতিপক্ষকে আরও ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন ও ইসরায়েল বাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার পর এই আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। ইরান শুরু থেকেই ড্রোনের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত আক্রমণ চালিয়ে আসছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles