11.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, জুন ২৮, ২০২২

টরন্টো বসে শব্দ শুনি

- Advertisement -
টরন্টো বসে শব্দ শুনি
নদীর এক একটা পাড় ভাঙে আর আমি সুদুর কানাডার টরন্টো বসে তার শব্দ শুনি

নদীর এক একটা পাড় ভাঙে আর আমি সুদুর কানাডার টরন্টো বসে তার শব্দ শুনি! নদীর পাড়ের মানুষের বুকফাটা কান্নার আওয়াজে আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নদীর ভাঙন ঠেকানো কোন মন্ত্রী বা সচিবের কাজ নয়। স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি দরকার। ফেরীর মধ্যে বসে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সাথে টেলি সংলাপের ভিডিও প্রকাশ করে কিংব কোন সচিবের কাছে চিঠি বা ডিও লেটার লিখে কিছু মানুষের বাহবা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ নদীর ভাঙনে একের পর এক বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়া, নিশ্চিহ্ন হওয়া ঠেকিয়ে গরীব কৃষক অসহায় মানুষদের রক্ষা করা এক কথা নয়।

১৯৯০ সালে সে রকম নদী ভাঙন ছিল না। কিন্তু বেশ কিছু সমস্যা ছিল এলাকায় যা একমাত্র রাষ্ট্রপতি ছাড়া কারো পক্ষে সমাধান করা সম্ভব ছিল না। সে কারণেই মুলত সেদিন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব বোধ থেকে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও রাজবাড়ী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা সমন্বয়কারী শেখ শহীদুল ইসলাম ভাইকে সাথে নিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য রাষ্ট্রপতির অফিসে গিয়েছিলাম। তাকে শুধু আমার এলাকা সফর করার আমন্ত্রণ করতেই মুলত গিয়েছিলাম যাতে একবার তিনি সরিজমিনে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিদর্শন করে বড় বড় সব সমস্যাগুলোর সমাধান করে দিয়ে যান। তিনি সেদিন আমার আমন্ত্রণ গ্রহন করেছিলেন, কিন্তু তার কিছুদিন পরেই তার শাসনের অবসান ঘটার কারণে তাঁর আর গোয়ালন্দে আসা হয়ে উঠে নি।

সে কারণেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বাংলাদেশের ক্ষমতাবলয়ের মুল জায়গায় যেতে না পারলে, না বলতে পারলে, কাজের কাজ কিছুই হয় না, অতীতেও হয় নি, এখনো হবে না।

গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া দেবগ্রাম দুটো ইউনিয়ন আজ পদ্মার ভাঙনে বিলীন হবার পথে। রাজবাড়ী গোয়ালন্দের সকল জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্ব এই ভাঙনের কার্যকর প্রতিরোধ করা, শুধু লোক দেখানো বালুর বস্তা ফেলানো আর মানুষকে অযথা আশ্বাস দেয়া নয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান, নদী ভাঙন ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণ করুন।

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles