
টানা চতুর্থ বছরের মতো কানাডায় কর্মক্ষেত্রে গমনাগমন বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মহামারি-পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে হাইব্রিড কাজের সংস্কৃতি স্থিতিশীল হলেও দেখা যাচ্ছে, ক্রমশ বেশি সংখ্যক কর্মী আবারও অফিসমুখী হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডায় যারা বেশিরভাগ সময় বাড়ি থেকে কাজ করতেন, তাদের হার নেমে এসেছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজের পরিবেশ ত্যাগ করে অফিসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, যারা মূলত কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে কাজ করেন, তাদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশে, যা এক বছর আগের তুলনায় এক শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। হাইব্রিড কর্মী যারা সপ্তাহের কিছু দিন বাড়ি থেকে এবং কিছু দিন অফিসে কাজ করেন তাদের সংখ্যা সামান্য বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে আগের বছর এই হার ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে গমনাগমনের সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে অটোয়া-গ্যাটিনো এলাকায়। এই অঞ্চলে চলতি বছর যাত্রী গমনাগমন বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ, যা দেশজুড়ে সর্বাধিক। এ বৃদ্ধির ফলে অটোয়া-গ্যাটিনো এখন কার্যত টরন্টোর সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। টরন্টোতে বর্তমানে অফিসগামীদের হার ৭৬ শতাংশ, যা দেশের অন্যতম উচ্চতম হার।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কানাডিয়ানদের কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা এখনো সবচেয়ে বেশি, যদিও এতে সামান্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮০ দশমিক ০৯ শতাংশ কর্মী গাড়ি, ট্রাক বা ভ্যানে চড়ে কর্মস্থলে যান, যা আগের বছরের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কিছুটা কম।
এর বিপরীতে, গণপরিবহন ব্যবহার বেড়েছে। আগের বছর ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মী গণপরিবহন ব্যবহার করতেন, বর্তমানে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশে। হাঁটা বা সাইকেলে কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত করছে যে কানাডায় মহামারির পর “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় কর্মীদের অফিসে ফেরাতে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সরকার ও আর্থিক খাতে হাইব্রিড কর্মপদ্ধতি এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও, বেশিরভাগ কর্মক্ষেত্রে অফিসে উপস্থিত থাকা আবারও মূলধারায় ফিরছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মীদের অফিসে উপস্থিতি বৃদ্ধির ফলে গণপরিবহন, শহুরে ব্যবসা, ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে ট্রাফিক জ্যাম ও পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে পরিবেশবিদদের সতর্কবার্তা।
কানাডার কর্মজীবনে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে হাইব্রিড কাজের সুবিধা বজায় রেখেও অধিকাংশ কানাডিয়ান এখন আবার অফিসের দোরগোড়ায় ফিরছেন। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার এই প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে, কর্মসংস্কৃতি আবারও ধীরে ধীরে মহামারি-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে, যদিও তা এক নতুন ভারসাম্যে যেখানে অফিস আর বাড়ি দুটোই কাজের সমান অংশ হয়ে উঠছে।

