শিগগিরই বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না

শিগগিরই বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না - the Bengali Times
জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই চাপে থাকা কানাডিয়ানদের সামনে আসছে আরও কঠিন সময়

জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই চাপে থাকা কানাডিয়ানদের সামনে আসছে আরও কঠিন সময়। সাম্প্রতিক উপাত্ত বলছে, দেশজুড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং শুল্ক নীতির প্রভাবে। এরই মধ্যে শ্রম উৎপাদনশীলতা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বেতন বৃদ্ধির গতিপ্রবাহে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নরমান্ডিন বিউড্রি (Normandin Beaudry)–এর বেতন সংক্রান্ত জ্যেষ্ঠ অধ্যক্ষ ডারসি ক্লার্ক সতর্ক করে বলেন, “লোকজনের এখন বাস্তবতা বুঝে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কিছু ব্যবসা বা শিল্প খাত ইতিমধ্যেই শুল্ক ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের চাপে রয়েছে, যা তাদের বেতন নীতি ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে।”

- Advertisement -

নরমান্ডিন বিউড্রির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কানাডাজুড়ে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর করা জরিপে ২০২৬ সালে গড়ে ৩.১ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা প্রকাশ পেয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে বেতন বেড়েছিল গড়ে ৩.২ শতাংশ, এবং প্রাথমিক পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের জন্য ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল সেটি এখন বাস্তবতার কারণে কমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতেই বেশি মনোযোগী, কারণ বাণিজ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতের মুনাফার হিসাবকে অনির্দেশ্য করে তুলেছে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা–এর সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ০.৩ শতাংশ, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে ছিল ০.৬ শতাংশ। অর্থাৎ, কাজের সময় বৃদ্ধি এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সেবা খাতে, যা কানাডার মোট কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কর্মঘণ্টা যেমন কমছে, তেমনি ঘণ্টাপ্রতি বেতন পরিশোধও কমেছে ০.৫ শতাংশ, যা ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো বেতন হ্রাসের ঘটনা। এটি ইঙ্গিত করছে যে, শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে, বিশেষত নতুন চাকরি খুঁজছেন যারা তাদের জন্য আগামী মাসগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বর্তমানে জটিল অবস্থায় রয়েছে। শুল্কের বেড়াজালে পড়ে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন উচ্চ ব্যয়ের মুখে পড়েছে। এই ব্যয় সামাল দিতে অনেকেই উৎপাদন ধীর করছে, কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে, এমনকি কর্মঘণ্টাও সীমিত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনায়। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিশ্চিত নয়, আগামী বছরগুলোতে তাদের রপ্তানি বা উৎপাদন পরিস্থিতি কেমন হবে। ফলে, বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে তারা “অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ” নীতিতে যাচ্ছে।

বেতন বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া মানে হলো, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে আবাসন, জ্বালানি ও খাদ্যের দামের যে ঊর্ধ্বগতি চলছে, তাতে গড় কানাডিয়ান পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি উৎপাদনশীলতার উন্নতি না ঘটে এবং বাণিজ্য যুদ্ধের জটিলতা না কমে, তবে ২০২৬ সাল পর্যন্তও বেতন বৃদ্ধির এই মন্দা অব্যাহত থাকতে পারে।

কানাডার অর্থনীতি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে বাড়তি ব্যয় ও শুল্কের চাপ, অন্যদিকে ধীর উৎপাদন ও অনিশ্চিত বৈদেশিক বাজার সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান ও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়ছে।

বেতন বৃদ্ধির হার যতই ক্ষীণ হোক, সাধারণ কানাডিয়ানদের জন্য এই বার্তা পরিষ্কার আসন্ন বছরগুলোতে আর্থিক সাবধানতা ও পরিকল্পিত ব্যয় ব্যবস্থাপনাই টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হতে যাচ্ছে।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles