আমিতো এনেছি স্বাধীনতা

আমিতো এনেছি স্বাধীনতা - the Bengali Times
শুনেছি একই গ্রামে এখন দুটো ধর্ষণ হয় একরাতে তাতে একজন মরে যায় অন্যজন জানি না

শুনেছি একই গ্রামে এখন দুটো ধর্ষণ হয় একরাতে। তাতে একজন মরে যায়। অন্যজন… জানি না।

আমি কিভাবে জানবো ধর্ষণ-কলা? জানিনা কোন স্কুলে শিক্ষা দেয় অমন হাতের খেলা। কেনই বা বাঁশ বাগানের নিচে কাম বীজ ফণা তোলে। কী করে পুরুষের পলাতক খুঁটি নড়বড় করে।

- Advertisement -

আমিতো এনেছি স্বাধীনতা। একখণ্ড জমির স্থায়ী ইজারা । সে গল্প যদি শুনতে চাও পূর্ণিমাকে বেধে গল্প শোনাবে। বলবো, জোনাকি পোকার সাথে রাত জাগা কথা। তখন জানতে পারবে রাত জেগে জেগে কতটা ভাব হয়েছিল পোকা আর মানুষের। কতটা মায়া জমে গিয়েছিল নীরবতা ভাঙ্গা রাইফেল আর যুবকের।

যদি শুনতে চাও;

গল্প শোনাবো কাঁঠাল পাতায় দুমুঠো বাসি খেয়ে কতটা শক্তি পেতাম। যে কথা এখনও হয়নি বলা তাও বলবো। অন্ধ ভিখারি কী করে পাহারা দিয়েছিল গুলিতে নিহত ছিরু মিয়ার লাশ। কি করে সে পোকাদের হুকুম দিত ‘যা নেমে যা, মরা শরীর থেকে’। তারপর নিজেই একদিন পোকার জন্য আহার হলো কেমন করে।

তখন একটা যৌথ সময় ছিল, ছিল যৌথ আতঙ্ক আর যৌথ স্বপ্ন। নৌকা চড়ে খাল বিল নদী পাহারা দিতে হতো। হাটে গিয়ে সিগারেট খেতে খেতে সুকৌশলে গামছাটা টেনে ধরতাম। যাতে স্টেনগান দেখে বাড়ি ফিরে লোকজন বলতে পারে মুক্তি দেখে এলাম। অথবা বাবার হাত ধরে দাড়িয়ে থাকা ছোট্ট শিশু বড় হয়ে বলতে পারে, কিংবদন্তির কথা।

তখন সময় এমন ছিল যে, কখন আসবে মুক্তি কখন আসবে মুক্তি এমন চিন্তা কপালে ভাঁজ ফেলে দিত। সেই মুক্তিরা এলে পুকুর পারে দাড়িয়ে যেত যুবতী নারী বৃদ্ধা।

ওরা চেয়ে থাকতো আশীর্বাদের ডালি নিয়ে।

কারোর হাতে থাকতো চিড়া মুড়ি গুড়।

হাতেবোনা সোয়েটার।

কারোর চোখে প্রসন্ন বিজয়ের সুর…

আজ তাদেরই কেউ কেউ ধর্ষিত হচ্ছে। ওদের ওষ্ঠ দেহতত্বে সীমাহীন অবৈধ স্পর্শ। কারোর শরীর হয়ে গেছে কুচকুচে কয়লা। কেরোসিনের গন্ধে নিভে গেছে কারোর জীবন।

কেউ কেউ ফুল ফেলে দেয় হাত থেকে,

ভয়ে আতঙ্কে।

যেদেশে বসন্ত এলে কৃষ্ণচূড়া ফুটত আজ সে দেশ বড়ই অশান্ত।

যতটুকু পারি সহ্য করি, যতটুকু চুপ থাকা যায় চুপ থাকি আবার ভাবি, দেব নাকি গাজী গাজী বলে আর একটা ডাক। কালভার্টের মত উড়িয়ে দেব নাকি পোশাকি কাম ভাব। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় রেল লাইনের স্লিপার তুলে নেওয়ার মত চর চর করে চিড়ে ফেলি ওদের যোগাযোগের অগ্রভাগ। নয়তো পাহারা দিতে চলে যাই ঈশ্বরদী, বাবুপুর, শুভপুর ব্রিজ। কিন্তু কিছুই করতে পারি না।

আমি বেঁচে আছি তা কি শুধু মোমবাতি জ্বালিয়ে পথ বন্দনা দিতে?

অস্ত্র জমা মানেই কী বন্ধ হয়ে গেছে হিসাবের খাতা?

যেখানে বুক সেখানেই ছিল একাত্তরের হিয়া।

চে গুয়েভ্যারা, কাস্ট্রো, মাষ্টার দা, ওরা বলতো উঠে দাঁড়া। কোথায় গেল আমার সোনালী যৌবন। মাটিতে রক্তের দাগ অথচ যুদ্ধ শেষে এখন কাদামাটি ধুয়ে বিশ্রামে আছি। এখন সকাল হবার আগেই বসে থাকি শিশির ভেজা ঘাসে। আমার বেলা কেটে যায় রাহুল সোলায়মান ইদ্রিস রমেশ আর কমান্ডার হাবিবের মুখ মনে করে করে।

দেশে বসন্ত আসুক বারবার। আবার ফুটুক কৃষ্ণচূড়া। বটতলা, ইসলামপুর শ্রীরামকান্দির মেয়েরা নির্ভয়ে সাতার কাটুক পুকুর ঘাটে। দীর্ঘ আয়ু পাক ওরা। মক্তব মাদ্রাসা স্কুল কলেজের মাঠে আদুরে কন্যারা যেন আর কেঁদে না ওঠে? আর যেন কাউকে যেতে না হয় থানাদারের কাছে।

গল্প শুনতে হলে গল্পটাও জানতে হয়।

অতঃপর, এতোটুকু অভয়, এতোটুকু বলয় আর রক্ষিত পতাকা। তারই নাম স্বাধীনতা।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles