সিলিং ফ্যানে ঝুলছিলেন তিনি

সিলিং ফ্যানে ঝুলছিলেন তিনি - the Bengali Times
দুই পৃষ্ঠার চিরকুটের ওপর লেখা ছিল আমরা চারজন পৃথিবী থেকে বিদায় নেব আর দেখা হবে না খোদা হাফেজ

“সিলিং ফ্যানে ঝুলছিলেন তিনি। পাশে বিছানায় পড়ে আছে বড় ছেলে। পাশের ঘরের বিছানায় স্ত্রী ও ছোট মেয়ে পড়ে আছে। তাঁদের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশে পাওয়া একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’

মৃত ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম (৩৫), স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮) এবং তাঁদের ছেলে মাহিন (১৩) ও মেয়ে মিথিলা (২)। মাহিন খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। আর মিনারুল কৃষিকাজ করতেন।

- Advertisement -

দুই পৃষ্ঠার চিরকুটের ওপর লেখা ছিল, ‘আমরা চারজন পৃথিবী থেকে বিদায় নেব, আর দেখা হবে না খোদা হাফেজ।’ এরপর লেখা ছিল, ‘আমি মিনারুল। নিচে যেসব লেখা লিখব, সব আমার নিজের কথা, এই কারণে লিখে যাচ্ছি, কারণ, আজ রাতে আমরা চারজন মারা যাব। এই মরার জন্য কারও কোনো দোষ নেই। কারণ লিখে না গেলে পুলিশ কাকে না কাকে ফাঁসিয়ে টাকা খাবে। আমি মিনারুল প্রথমে আমার বউকে মেরেছি। তারপর আমার মাহিনকে মেরেছি। তারপর আমার মিথিলাকে মেরেছি। তারপর আমি গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছি। আমাদের চারজনের মরা মুখ যেন বাপের বড় ছেলে ও তার বউ-বাচ্চা না দেখে এবং বড় ছেলে যেন জানাজায় না যায়। আমাদের চারজনকে কাফন দিয়ে ঢাকতে আমার বাবা যেন টাকা না দেয়। এটা আমার কসম। (ইতি মিনারুল, আসসালামু আলাইকুম)।’

আরেক পৃষ্ঠায় লেখা ছিল, ‘আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম এই কারণে যে আমি একা যদি মরে যাই, তাহলে আমার বউ, ছেলেমেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া দিতেই পারব না। আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম, সেই ভালো হলো। কারও কাছে কিছু চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই, সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।’”

যে মুহূর্তে রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি তথা রুটি রুজির নিশ্চয়তা বিধানে নুতন নুতন উদ্যোগ গ্রহণ করা, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ‍্যে প্রতিযোগিতামূলকভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, তাদেরকে অন্তত দু বেলা দুমুঠো ভাতের ব‍্যবস্হা করা, সেই মুহূর্তে তারা ব‍্যস্ত হাওয়াই মিঠাই নামক অদৃশ্য কিছু ছেলে ভুলানো রাজনৈতিক তাবিজ বিতরণ করার এন্ডলেস বিতর্কে, যার কোন কুল নাই কিনার নাই। উপরের ঘটনাটিও যদি আমাদের চোখ খুলে না দেয় তাহলে আমরা চিরকালীন অন্ধ বৈ আর কিছুই নয়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles