
কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্ক কার্নির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। একসময়ের ব্যাংক অব কানাডা ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি কুড়ানো কার্নি এবার কানাডার সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে বসেছেন। তবে অর্থনীতির রণকৌশল ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কি তাকে সফল করবে, নাকি রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন বাস্তবতার মুখে ব্যর্থ হবেন—সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্নির আর্থিক জ্ঞান ও বৈশ্বিক যোগাযোগ কানাডার অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সবুজ জ্বালানির প্রসারে তিনি সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকদের মতে, ব্যাংকার হিসেবে তার সাফল্য রাজনীতিতে সমানভাবে কাজে লাগবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বহুদলীয় পার্লামেন্ট, প্রদেশগুলির স্বার্থসংঘাত, এবং জনগণের নানা প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাত, অভিবাসন নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষ সামলানো সহজ হবে না।
মার্ক কার্নির সামনে তাই পথ দু’ধরনের—যদি তিনি তার অর্থনৈতিক দক্ষতা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন, তবে কানাডার ইতিহাসে সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখাবেন। কিন্তু যদি দলীয় রাজনীতির টানাপোড়েন ও প্রশাসনিক জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন, তবে ব্যর্থতার তকমা এড়ানো কঠিন হবে।
বর্তমানে কানাডাবাসী একদিকে আশাবাদী, অন্যদিকে সংশয়ী—কারণ কার্নির ভাগ্য নির্ভর করছে কেবল অর্থনৈতিক মডেল নয়, বরং বাস্তব রাজনীতির কঠিন পরীক্ষার উপর।

