
বড় ছেলে জীবনের আরেক অধ্যায় শুরু করেছে। এই অধ্যায়ের এখনকার ডেস্টিনেশন অন্টারিওর পর্যটন শহর কিংস্টন। কুইন্স ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে কিংস্টন জেনারেল হাসপাতালে শুরু হলো তার নতুন জীবন। তার মুভিং এ সহায়তা করতেই লং উইকএন্ডে ( ২৭-৩০ জুন) কিংস্টন গিয়েছিলাম আমরা।
২
নিরিবিলি ছোট ছিমছাম শহর কিংস্টন । শুরুতে এটি কানাডার রাজধানী ছিলো। ১৮৪১ সাল থেকে এটি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র চার বছর। স্বল্পস্থায়ীত্বের অন্যান্য কারনের সাথে আরও যে মুল কারনটি ছিলো তা হলো আমেরিকা কতৃক আতর্কিতে রাজধানী দখল করার ভয়। কারন এর পাশজুড়ে আছে আমেরিকার সীমানা। এখন যে আমেরিকার দখলদারিত্ব, ভীতিকর রাষ্ট্রের তকমা তা দু’শো বছর আগেও তাদের ছিল।
৩
আমাদের বাড়ি থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে হ্যামিলটনের দিকে ড্রাইভ করলে পাওয়া যায় অন্টারিও লেক। গতকাল বাড়ি থেকে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার উত্তরে ড্রাইভ করে এসেছি কিংস্টোন। রবিবার সকালে গিয়েছিলাম কিংস্টোনের লেক অন্টারিও পার্কে । এই পার্কটি অন্টারিও লেকের ধারে অবস্থিত। এ থেকে অনুমান করা যায় এ লেকের আয়তন। উনিশ হাজার বর্গকিলোমিটারের আয়তনের এ লেকের স্বচ্ছ জলরাশি এসে আছড়ে পড়ছে কিংস্টন লেক অন্টারিও পার্কে। ছায়া সুনিবিড় পার্কে বসে এর বিশালতায় নিজেকে ক্ষুদ্রতর মনে হয়।
৪
ডাউনটাউনের সিটি হল সংলগ্ন এলাকা বিখ্যাত অনেকগুলো কারনেই। লাইমস্টোনে তৈরি সিটি হল তৎকালিন রাজধানীর প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু । অন্টারিও লেকের ধারে গড়ে ওঠা এ ভবন আর্কিটেক্ট জর্জ ব্রাউন এর অন্যতম কৃত্তি। এখান থেকেই বোট ট্যুরে যাওয়া যায় থাউজেন্ট আইল্যান্ড। ছোট-বড় প্রায় আঠারশ দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা এই থাউজেন্ট আইল্যান্ডে এবার না গিয়ে রেখে দিয়েছি ভবিষ্যতে দুই ছেলেকে নিয়ে একত্রে যাওয়ার জন্য। থাউজেন্ট আইল্যান্ড বোট ট্যুর কানাডার অন্যতম পর্যটন আকর্ষন।
৫
কানাডার প্রথম প্রধানমন্ত্রী স্যার জন এ ম্যাগডোনাল্ড এর বাড়ী এ শহরেই। এটি এখন কানাডার হিস্টোরিক সাইট। প্রায় দুশো বছর স্থায়ী এ বাড়ি পার্ক কানাডা এখন স্বযত্নে সংরক্ষণ করছে। তাদের বাগান, ক্ষেত, বৈঠকখানা, খাবার ঘর, শয়নকক্ষ, তৈজসপত্র অবিকল আছে। আমরা এমনই এক জাতি, মাত্র পঞ্চাশ বছরে জাতির জনকের বাড়ি, স্বাধীনতার যাবতীয় স্মৃতিচিহ্ন ধুলিসাৎ করে দিয়েছি।
গুয়েল্ফ, কানাডা

