
টরন্টোতে গতকাল গভীর রাতে একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশের এবং অগ্নিনির্বাপক দলের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে একটি টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ের ধারে গার্ডরেল ও কংক্রিটের স্তম্ভে ধাক্কা খাওয়ার পর। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে আগুন ধরে যায়, এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভেতরে থাকা যাত্রীরা ফাঁস হয়ে যান।
টরন্টো পুলিশ জানায়, গাড়িটি ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে চলছিল। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ এটি বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। বিস্ফোরণের মতো শব্দে স্থানীয়রা চমকে উঠে এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিনির্বাপক দলকে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় নিতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন এত ভয়ঙ্কর ছিল যে গাড়ির ভেতরে কেউ বের হতে পারছিল না। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম এটি কোনো বিস্ফোরণ। তারপর দেখলাম গাড়ি আগুনে ঘেরা, ভেতরে কেউ আটকা।”
নিহত চারজনের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই তরুণ এবং সম্ভবত একই পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুর্ঘটনার খবরে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর নিহতদের নাম প্রকাশ করা হবে এবং তাদের পরিবারকে সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রদেশে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অনেক দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতি, মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের প্রভাবে গাড়ি চালানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি। টেসলা গাড়ির ক্ষেত্রে আগে একাধিকবার ব্যাটারি বিস্ফোরণ এবং অটোপাইলট ফিচারের ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি পরিবেশবান্ধব হলেও সেগুলোতে দুর্ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এখনও অনেক বেশি। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি দ্রুত আগুন ছড়িয়ে দেয় এবং নেভানো কঠিন।
টরন্টোর মেয়র দুর্ঘটনার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমাদের শহরের জন্য এক মর্মান্তিক ঘটনা। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে আমরা আছি।” তিনি জনসাধারণকে সতর্ক করে বলেন, “সড়কে নিরাপত্তার বিকল্প নেই। অতিরিক্ত গতি প্রাণঘাতী হতে পারে।”
দুর্ঘটনার কারণে ওই হাইওয়ে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল, যার ফলে চলাচলে তীব্র ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। গাড়ির ব্ল্যাকবক্স ও সফটওয়্যার ডেটা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায়, গাড়িটি দুর্ঘটনার সময় অটোপাইলট মোডে ছিল কি না বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটেছিল কি না।
টরন্টোর এই দুর্ঘটনা শুধু চারজনের মৃত্যু ঘটায়নি, বরং আবারও বৈদ্যুতিক গাড়ির নিরাপত্তা, প্রযুক্তির নির্ভরশীলতা এবং চালকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং জনগণের সচেতনতা এই তিনটি ক্ষেত্রেই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

