দুইদিনের আলবার্টা সফর শেষ করলেন কার্নি

দুইদিনের আলবার্টা সফর শেষ করলেন কার্নি - the Bengali Times
কানাডার সঙ্গে আলবার্টার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোটের আগে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে প্রচার চালিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

আলবার্টার কানাডার সঙ্গে থাকা নিয়ে গণভোটের আগে নিজ শহর এডমন্টনে সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে দুই দিনের প্রচার শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বিচ্ছিন্নতার পথে এগোনোর উদ্যোগকে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে তিনি প্রদেশের বাসিন্দাদের কানাডার ঐক্যের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

কানাডার সঙ্গে আলবার্টার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোটের আগে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে প্রচার চালিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শুক্রবার নিজের শহর এডমন্টনে হাজারো মানুষের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দিনের আলবার্টা সফর শেষ করেন তিনি। এ সময় বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগের বিরোধিতা করে কার্নি বলেন, কানাডাকে বিভক্ত করার চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

- Advertisement -

সমাবেশে নিজের আলবার্টার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আলবার্টা আমার ঘর। আমি এখানেই বড় হয়েছি। এই শহর, এই প্রদেশ, এই দেশ আমাকে সবকিছু দিয়েছে। আমাকে পরিবার দিয়েছে, শিক্ষা দিয়েছে এবং আমার মূল্যবোধ দিয়েছে।”

কার্নির বক্তব্যের সময় সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেক সমর্থককে কানাডার জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায়। তাঁদের কেউ কেউ ম্যাপল লিফের প্রতীকসংবলিত পোশাক পরে এসেছিলেন। তাঁরা নাচ-গান এবং স্লোগানের মাধ্যমে কানাডার সঙ্গে আলবার্টার সম্পর্ক অটুট রাখার পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানান। যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার বিরোধিতা করেও স্লোগান দেন অনেকে।

আলবার্টাবাসীকে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কার্নি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরি হলে তার সুযোগ নিতে পারে বাইরের শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সীমান্তের বাইরে কেউ কেউ আছেন, যারা আমাদের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করতে চান, যাতে তাঁরা আমাদের মালিক হতে পারেন। কিন্তু সেটা কখনোই হবে না।”

বিচ্ছিন্নতার পক্ষে ভোট দেওয়ার উদ্যোগকে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কানাডা ও আলবার্টাকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে প্রদেশটির বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সমাবেশে সবাই যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত ছিলেন, তা নয়। কানাডার সামরিক বাহিনীতে দেশটির নাগরিকদের অবদান নিয়ে কথা বলার সময় এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে চিৎকার করতে থাকেন। পরিস্থিতির মধ্যে কার্নি বলেন, “দয়া করে সেনাবাহিনীতে আমাদের পুরুষ ও নারীদের প্রতি কিছুটা সম্মান দেখান।”

দুই দিনের সফরে এডমন্টন, ক্যালগেরি ও রেড ডিয়ারে কানাডার ঐক্যের পক্ষে প্রচার চালান কার্নি। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন, করমর্দন করেন এবং সমর্থকদের সঙ্গে ছবি তোলেন। এর আগের দিন ক্যালগেরিতেও একই ধরনের সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আলবার্টার বাসিন্দাদের কাছে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে না গিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতার দাবির পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের জ্বালানিনীতি, পরিবেশবিষয়ক বিধিনিষেধ এবং প্রাদেশিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডার ঐক্যের পক্ষে কার্নির প্রচার ভোটের আগে জাতীয় রাজনীতিতে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

সোমবারের গণভোটে আলবার্টার ভোটাররা সিদ্ধান্ত জানাবেন, কানাডার সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক বজায় থাকবে, নাকি দেশটির কনফেডারেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় একটি বাধ্যতামূলক গণভোটের পথে এগোনোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ভোটে সরাসরি আলবার্টার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে না। বরং বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভোটারদের মতামত জানা হবে।

গণভোটের ফল শুধু আলবার্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। কানাডার জাতীয় ঐক্য, কেন্দ্র ও প্রদেশের সম্পর্ক এবং জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ভোটের আগে কার্নির দুই দিনের প্রচার তাই আলবার্টার বাসিন্দাদের কাছে একটি রাজনৈতিক আহ্বানের পাশাপাশি কানাডার ঐক্য নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কেরও প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles