
শুভ বিজয়া। টরন্টোর প্রধাণ তিন মন্দিরের দূর্গাপূজো মন্ডপেই আসতে প্রিয়জনদের কাছ থেকে আন্তরিক আমন্ত্রণ পাই প্রতি বছর। গত বছরতো তিনদিনে আরো সবাইকে গাড়ি ভরে তিন জায়গায় গিয়েছি। খেয়েছি দেয়েছি,দীর্ঘদিনপর অনেক প্রিয় মানুষদের দেখে পরস্পর জড়িয়ে ধরেছি। এবছর কেন যেন বাংলাদেশের অবস্থা,বিশ্ব অবস্থা সব দেখেশুনে নিজেই নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছি। বাধ্য না হলে ঘর ছেড়ে তেমন বেরুতে ইচ্ছেই করেনা।
তবু গেলাম দূর্গাবাড়ি মন্ডপে। পথেই ছিলাম অনুপমকে ফোন করায় জানলাম সুমিতারা ওখানেই আছে। ফেরার সময় হয়েছে তাদের কাছাকাছি থাকলে গিয়ে মন্ডপও দেখলেন,পরে ওকে নিয়ে আমাদের বাসায় চলে আসেন গরম লুচির সাথে আপনার প্রিয় চাতো আছেই।
টরন্টোর তিনটি মন্দিরেই এবারও জমজমাট পূজো,গান,নাচ চলছে। দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখে ২০০৩ সালের কথা মনে পড়ে গেলো। ঠিক তখনি টরন্টোর ডেনফোর্থ বাংলা টাউনে আমি ও রনি ডি রোজারীও মিলে শুরু করেছিলাম ডিজাইন ও প্রিন্টিং ফার্ম নাম ‘ইনডিজাইন গ্রাফিক লিমিটেড’। টরন্টোর বাংলাদেশীদের মধ্যে এটিই হচ্ছে ডিজাইন ও প্রিন্টিং এর প্রথম ব্যবসার গোড়াপত্তন। এর আগে আর কেউ ভাবেনি ডিজাইন করা আর ছাপাছাপিও একটা ব্যবসা হতে পারে এখানে! আজ অথচ অনেকেই ধুমসে এই ব্যবসা চালিয়ে ভালোই উন্নতি করেছেন।
২০০৩ সালে টরন্টোতে বাংলাদেশীদের কোনো মন্দির ছিলোনা। হিন্দু কালচারালার সোসাইটি বার্চমাউন্ট রোডে শ্রীলঙ্কান এক মন্দিরে তিনদিনের জন্যে দূর্গা পূজো আয়োজন করা হতো। তখনি এক দুপুরে ডেনফোর্থে আমাদের ইনডিজাইন অফিসে এলো হিন্দু কালচারালার সোসাইটির তিন উদীপ্ত যুবক। হাতে ১৫ পৃষ্ঠার সাদাকালো ফোটোকপিতে ছাপা ‘চিন্ময়ী’ নামের এক চটিপত্র। হাতে সেটি থাকলেও কন্ঠে বড় জোস। তারা বল্লেন- চার রঙা লেমেনেট সহ কাভার ভেতরে বিজ্ঞাপন সহ দুইশত পৃষ্ঠার অফসেটে ছাপা ঝকঝকে ‘চিন্ময়ী’র এক নবজন্ম চাই, টরন্টোর দূর্গা পূজায় যেন ইতিহাস হয়ে স্মরণীয় থাকবে। পারবেন আপনারা করতে?
-কেন পারবোনা এটাইতো আমাদের দুইজনের কাজ। শুধু যথাযথ খরচের টাকার ফ্লো ঠিক থাকলে অবশ্যই ইতিহাস হবে।
তারা কথা রেখে ছিলেন। আমার দুইজন ইটোবিকো পাঞ্জাবী অফসেট প্রেস থেকে নিজেরা দুইশত পৃষ্ঠা এমন কি বিজ্ঞপনের ডিজাইন পর্যন্ত করে ছাপিয়ে বক্সে-বক্সে ভরে সপ্তমীর জমজমাট সন্ধ্যায় নতুন রূপে এক অপূর্ব টরন্টোতে সেই প্রথম ‘চিন্ময়ী’ইতিহাস গড়া পূজো সংকলন তাদের হাতে তুলে দিয়ে ছিলাম। সেই চিন্ময়ীর প্রচ্ছদ আমি নিজেই এঁকে ছিলাম দূর্গা মুখাবয়ব। আজও ‘চিন্ময়ী’ সম্ভবত পূজোয় বের হয় তবে জন্মলগ্নের কথা কেবা জানে! তাই সুযোগ বুঝে বলে ফেল্লাম।

