27.8 C
Toronto
শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪

খুকু

খুকু
দখিনা বিদায় নিতে আসলো

দখিনা বিদায় নিতে আসলো।

কিছুক্ষণ পর পর ফুঁপিয়ে উঠছে, দুগাল বেয়ে পানি নেমে আসছে। আমাকে চুমু খেয়ে, জড়িয়ে ধরে চলে যেতে লাগলো। সে মেকি হাসির আড়ালে কান্না ঢাকবার হাস্যকর প্রয়াস চালাচ্ছে। তারপর সেই বিখ্যাত বিদায়ী সম্ভাষণ- “লাভ ইউ, মিস ইউ, আসসালামু আলাইকুম..” বলতে বলতে তার ব্যাক্তিগত বালিশ আর কোলবালিশ বগলদাবা করে ব্যাক গিয়ারে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল।

- Advertisement -

আমি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ি।
এখন মোবাইল ভুলেও হাতে ধরা যাবে না। সে চলে গেলেও আবার আসবে! কিছুক্ষন পর এসে চেক করে যাবে বাপ আসলে ঘুমাচ্ছে কি না। তার ট্যাবের চার্জার, চশমা কিংবা বই খোঁজার অজুহাতে। যদি দেখে আমি মোবাইল স্ক্রল করছি, সারা বাড়ি মাথায় তুলে বলবে- “মোবাইল দেখলে তোমার অফিসের লেট হয় না? শুধু আমি থাকতে চাইলেই তোমার লেট?”

বাপকে সে খুব চোখে চোখে রাখে!
সবচাইতে বেশি খেয়াল রাখে যখন বাইরে যাই।

কারও দিকে কৌতুহলবসত হাফ সেকেন্ডের জন্যও যদি তাকাইছি বাপ রে বাপ.. ওয়ার্নিং দিয়ে বলবে- “আব্বা! পাবলিকের দিকে স্টেয়ার করছো কেন?” আগে ভাবতাম আমি মানুষের দিকে খুব কম তাকাই, তাকালেও খুব দ্রুত অল্পক্ষণের জন্য। এখন দেখি আমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আমি কি তাহলে ড্যাপ ড্যাপ করে তাকাই? সে পাশে থাকলে কারও দিকে এক মিলি সেকেন্ডের বেশি তাকানো আলাউড না। শপিং মলের মধ্যে মহিলাদের দিকে ভুলেও তাকাই না, আড়চোখেও না।

আমার কখন দাঁড়ি কাটতে হবে, চুল কাটতে হবে, মুখ তৈলাক্ত হয়ে থাকে, গোসল করতে হবে, বাইরে যাবার সময় ক্যাপ পরে টাক ঢাকবো; নাকি খালি মাথায় যাবো, সব সে ঠিক করে দিবে। আর যদি ফ্রেঞ্চ ভ্যানিলা কফি অফার করি! তার খুব শখ আমাকে নিয়ে সে অটোয়া ডাউনটাউনে হাঁটবে। বিত্ত বা গিন্নি; কাউকে নিবে না। তার মা কারন জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে যায়।

চাদরের তলায় চট করে মোবাইলে সকাল সোয়া ছয়টার এলার্ম সেট করে আবার বালিশের তলায় দ্রুত রেখে দেই। সাধারণত সে সকাল সাড়ে ছ’টায় আমার কাছে এসে পনেরো-বিশ মিনিট কোলের মধ্যে ঘুমায়। উঠতে নিলেই “আর এক মিনিট” বলে আঁকড়িয়ে ধরবে। প্রতিদিন অফিস লেট। কন্যার আলিঙ্গন ছেড়ে বের হবার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা কোনো বাবাকে দিয়েছে বলে মনে হয় না।

আমার কাছে সে এখনো দুই বছরের বাচ্চা; বাবারা যেমন বাচ্চাকে কোলে না নিয়ে বা স্পর্শ না করে থাকতে পারে না। মেয়েটা আমার কাছে দিনকে দিন কি আরও ছোট হচ্ছে? যদিও তার বন্ধু-বান্ধবের কাছে সে একটা ম্যাচিউর্ড গার্ল, নেতা গোছের!
সে আমার জীবন পাল্টানো জ্বলজ্বলে এক মহাকাব্য!

মিনিট দশেক পর গিন্নি এসে আমার পাশে বসে বলল- বাপ-বেটি আবার ঝগড়া করছো?

উত্তর না পেয়ে আমাকে ঝাঁকিয়ে বলল- চান্দু, আমি জানি তুমি জাগা।

আমি মাথা থেকে চাদর না সরিয়ে বললাম, কী?

– দখিনা কানতেছে কেন?
– আমার সাথে থাকতে চাচ্ছিল। বলছি আজকে তুই একা থাক, আমার ঘুম দরকার। শুক্রবারে তো থাকবিই
– আমি তো দেখি ওকে নিয়ে তুমি আরও ভালো ঘুমাও। নাকও ডাকো। তুমি নাকি ওকে দূর দূর করে তাড়ায়ে দিছো?
– কই? শুধু বলছি কালকে আমার ওভারটাইম আছে। অলরেডি বারোটা বেজে গেছে। ছয় ঘন্টাও যদি না ঘুমাই..
– মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে
– ও কিছু না। ঠিক হয়ে যাবে।

গিন্নি কিছুক্ষণ অন্যদিকে মুখ ফিরে চুপ চাপ বসে থেকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, আমার আব্বাও আমাকে অনেক ভালবাসতো।
হয়তো আরও বেশি..

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles