17 C
Toronto
সোমবার, মে ২৭, ২০২৪

জীবন থেকে নেয়া

জীবন থেকে নেয়া

দ্বিতীয়বারের মতো ইনুভিক রিজিওনাল হসপিটালে যোগ দিলাম অক্টোবর , ২০২১। একবার যেখানে চাকুরী জোটানো এ দেশে কঠিন সেখানে ২য় বার রীতি মতো আমার কাছে বিস্ময়ের। এখান থেকে আমি চলে না গেলে আমিই এখানে সুপারভাইজার হতাম। যাকে পেলাম ঐ পদে সে অনেক ভালো মানুষ অমায়িক নারী। তার চোখে একটু সন্দেহ দেখলাম। কেন যেন প্রথম দেখাতে চোখে সন্দেহ থাকে অনেকের যে আমি ঠিক মতো কাজ করবো কিনা তারপর শুরু করার পর সন্দেহ চলে যায়।

- Advertisement -

আমার পরিচিত কর্মস্থল কিন্তু যারা কাজ করছে তারা সবাই অপরিচিত এক জন ব্যতীত। এক জন রিসিপশনিষ্ট ছিলো সে চলে গেলে নতুন এক আদিবাসী মেয়ে যোগ দিলো। দেখতে ছোট খাটো। সুপারভাইজার নিজেই বলতেন-ও আমার বেবী। তাকে বলতাম তোমার বেবী এই করেছে সেই করেছে। মেয়েটির নাম ডেরী। ডেরী কে সুপারভাইজার কাজ শেখাতেন আমার সাথে কথা হতো না তবে মাঝে মাঝে তার সাথে কাজের কথা বলতে চেষ্টা করতাম যেটা ছিলো আমার কাজের সাথে সম্পৃক্ত।
ডেরীকে দেখলে মনে হতো সে আতংকের মধ্যে আছে আমার ডেস্কের ধারে কাছে আসতোনা কাজ ছাড়া এবং কথাও বলতো না।

এক দিন সুপারভাইজারকে বললাম তোমার বেবীকে কাজের কথা বলতে ভয় লাগে কারণ সে কোন দিকে তাকায় না এবং কথা শুনছে কিনা তাও বোঝা যায় না। ডেরীর সাহায্য ছাড়া কিছু কাজ আমি ঠিকমতো করতেও পারছি না যেটা আগেও করেছি অন্য রিসিপশনিষ্ট এর সাথে।

সুপারভাইজার আমাকে বুঝিয়ে দিলেন-ওরা জোরে শব্দ হলেই ভয় পায়, হৈচৈ কি জিনিস তা ওরা জানেনা, তুমি যখন জোরে কথা বলো তখন ও ভয় পায়। নিজের কথা ভাবতে লাগলাম সত্যইতো আমার কন্ঠস্বর ভারী ডেরী হয়তো ভয় পায়। অপেক্ষাকৃত নরম সুরে কথা বলা শুরু করলাম। ইতোমধ্যে কয়েক মাস পেরিয়ে গেল ডেরী এখন আমার ডেস্কের কাছে এসে কাজ শেষ করে চলে যায়না বরং দু একটি কথা বললে শোনে, হাসে। মনে হলো বরফ গলছে।

আমার চাকরী এক বছর পার হলো আমি প্রাদেশিক হাসপাতালে যোগ দিয়েছি এবং প্রস্থানের দিন গুনছি। একদিন সুপারভাইজার কে বললাম যাওয়ার আগে সবার সাথে বসতে চাই। কিছু খাবার নিয়ে এলাম। ওরাও আমার জন্য উপহার নিয়ে এলো।

ডেরীর ডেস্ক অফিসের মূল দরজার সাথেই। আমি অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ওর ডেস্কের পাশ দিয়েই আসতে হয়। একটু দাঁড়িয়ে কি যেন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তর দিতে দিতে সে ছোট্ট একটি খাম আমার হাতে ধরিয়ে দিলো। এটিতো যখন এক সাথে বসে কথা বলছিলাম ফেয়ারওয়েলের সময় তখনও সে দিতে পারতো। সে হয়তো চায়না সবার সামনে আমি সেটা খুলি তাই বাসায় নিয়ে এলাম।

ছোট্ট একটি খাম, ছোট্ট একটি কার্ড ঠিক ডেরীর মতো বেবী তাতে ডেরী লিখেছে- “wishing you much joy and happiness as you begin a new chapter in your life you will be missed, including your wisdom. Thank you and farewell.” ডেরী (আসল নাম নয়)।
মনে হলো জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
ইনুভিক, কানাডা

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles