26.6 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪

কুশাহাটা বেতকা রাখালগাছি

কুশাহাটা বেতকা রাখালগাছি

গোয়ালন্দের এক সময়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছিল জামতলা হাট এবং কুশাহাটা বেতকা রাখালগাছি। ১৯৯০ সালে আমি পণ করলাম এই দুই প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে সরকারের একজন মন্ত্রীকে সেখানে নিয়ে গিয়ে জনসভা করবো। তাতে জনগণ উদ্বুদ্ধ হবে এবং মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হবে। দুটো এলাকায় বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া, হাট বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা ছিল অন্যতম টার্গেট। তখন আমার যুবক বয়সে মাথায় যেটা আসতো তা আমি বাস্তবায়নের চেষ্টা করতাম এবং আমার পরিকল্পনার কথা জানালে কেউ বাঁধা দিত না বরং সবাই সহযোগিতা করতো।

- Advertisement -

তখনো আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হই নি। তৎকালীন রাজবাড়ী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুন্সী আব্দুল লতিফকে নিয়ে এক ঘুটঘুটে সন্ধার অন্ধকারে রওয়ানা হলাম জামতলা হাটের উদ্দেশ্যে। সেখানে যেতে তখন কোন পাকা রাস্তা ছিল না। নদীর কিনার দিয়ে যে মাটির রাস্তা সেটি দিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। হঠাৎ একটি জায়গায় সেচের পাইপ এমনভাবে মাটি উঁচু করে স্হাপন করা ছিল যে একপাশ থেকে অপর পাশের অবস্হান বুঝা যাচ্ছিল না। ফলে মন্ত্রীর গাড়ীর ড্রাইভার গাড়ী নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায় পদ্মা নদীতে পড়ে যাবার উপক্রম হয়েছিলেন। যাহোক শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে জামতলা হাইস্কুল মাঠে উপস্হিত হই। মন্ত্রী আসবেন বলে সেই দুপুর থেকে লোকে লোকারণ্য। প্রথমবারের মত একজন পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এরকম একটি রিমোর্ট এলাকায়, নারী পুরুষ সকলের মধ্যে উচ্ছাস।

তখন স্কুল সবে শুরু হয়েছে। টিনের সামান্য ঘর ছিল সেখানে। মন্ত্রী সেই রাতেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন। যতদুর মনে পড়ে একটা ভাল রকম উন্নয়নের ব্যবস্হা তখন করা হয়েছিল। এছাড়া আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হবার পর যখনই সুযোগ হয়েছে টিন এবং চাউলের ব্যবস্হা করেছি। একবার আমার আব্বার কাছ থেকে টাকা নিয়ে জামতলা হাট ইজারা নিয়ে দিই জামতলা ক্লাব ও স্কুলকে। ইজারার জামানতের দশহাজার টাকা সহ দিয়ে দিই। ফলে গোটা এক বছর ইজারার টাকা তুলে তারা স্কুল ও ক্লাব পরিচালনা করেন।

আজ সেই স্কুলের অনেক উন্নতি হয়েছে। এবার গোয়ালন্দ উপজেলার শ্রেষ্ঠ স্কুল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বলে আজই জানতে পারলাম। আমি স্কুলের যারা প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, এতদুর নিয়ে এসেছেন সকল ছাত্র শিক্ষক, অভিভাবক সহ অত্র এলাকার সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। সাথে দেশ বিদেশের সকলকে বলবো, যত যাই করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সাথে থাকুন, রাজনৈতিক দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে স্কুল কলেজকে বিবেচনা করবেন না। কারণ শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ড সোজা রাখতে যে যেভাবে পারবেন সহযোগিতা করবেন।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles