13.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৪

মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে মায়ের ঝাঁপ, লাশের পাশে জন্মদিনের কেক

মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে মায়ের ঝাঁপ, লাশের পাশে জন্মদিনের কেক
ছবি সংগৃহীত

যশোর সদরের চুড়ামনকাটি পোতলাডাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকায় যশোর-ঢাকা রেললাইনে বসে কেক খাচ্ছিলেন মা ও মেয়ে। তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর আড়াইটা। খাওয়ার পাশাপাশি খোশগল্পও করছিলেন। তখনও ওই লাইনে কোন ট্রেন আসেনি। কিছুক্ষণ পর বেনাপোল থেকে যশোর হয়ে ঢাকাগামী ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি তাদের দিকে এগিয়ে আসে। ট্রেন যতই কাছে আসে মেয়ে ততই মাকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আকুতি সত্ত্বেও মা মেয়েকে নিচে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন।

এতে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৫ মার্চ) দুপুর ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের পোলতাডাঙ্গা গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

- Advertisement -

নিহতরা হলেন- চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বড় হৈবতপুর গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর মেয়ে লাকি বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে সুমাইয়া খাতুন মিম (১২)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেয়েকে জোর করে টেনে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন লাকি।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফাঁকা মাঠের মধ্যে রেললাইনের পাশে বসে মা-মেয়ে জন্মদিনের কেক খাচ্ছিলেন। কেক খাওয়ার মধ্যে ট্রেন চলে আসে। কালো বোরকা পড়া ওই নারী তার মেয়ের হাত ধরে ট্রেন লাইনের ওপরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু বারবার মেয়েটি তার মায়ের হাত জোর করে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু মা তার মেয়েটিকে নিয়ে জোর করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ে মারা যান। তিনি আরও বলেন, বাঁচার জন্য মেয়েটি তার মায়ের হাত অনেকবার ছাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু মা কোনোভাবেই মেয়েটির হাত ছাড়েনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, যেখানে মরদেহটি পড়ে ছিল তার থেকে ৫০ গজ দূরে লাইনের পাশে অর্ধেক খাওয়া একটি জন্মদিনের কেক ও কোমল পানীয় পড়ে রয়েছে। পাশের কেক কাটার ছুরিটিও রয়েছে। একটু দূরে মা মেয়ের দুই জোড়া জুতা ও দুটি ভ্যানিটি ব্যাগ পড়ে রয়েছে। এক সঙ্গে মা-মেয়ের এমন আত্মহননের খবর শুনতে পেরে দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করতে দেখা গেছে।

নিহত লাকি বেগমের ছোট বোন রোজিনা খাতুন বলেন, তিনি জানতেন তার বোন সকালে ডাক্তার দেখাতে যশোর শহরে গেছেন। পরে তার বোনের মোবাইল থেকে ফোন করে জানানো হয় তারা ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। তবে কী কারণে তারা আতœহত্যা করেছেন তা তিনি জানেন না। তার বোনের দুই জায়গায় বিয়ে হয়েছিলো। বর্তমানে তিনি স্বামী পরিত্যক্ত।

যশোর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনিতোষ বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ট্রেনে কাটা মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে কতা ময়নাতদন্তের জন্য যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে মেয়েকে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করলেন তা এখনও জানা যায়নি

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles