8.3 C
Toronto
শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০২৪

ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করায় জাফর

ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করায় জাফর
মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ওই নারীর স্বামী জাফর পরকীয়া সন্দেহের জেরে ভাড়াটিয়া খুনি দ্বারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে

বাগেরহাটের শরণখোলায় মা ও শিশু মেয়েকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ওই নারীর স্বামী জাফর পরকীয়া সন্দেহের জেরে ভাড়াটিয়া খুনি দ্বারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আবু জাফর হাওলাদার।

- Advertisement -

বাগেরহাটের পিবিআই পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান বলেন, তদন্তের সূত্র ধরে পাপিয়ার স্বামী মো. আবু জাফর হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদে সে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। আবু জাফরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আবু জাফর হাওলাদার লোক দিয়ে তার স্ত্রীকে মেরেছে। তবে তার মেয়েকে মারার কথা ছিলো না। সে জানায় তার বউ এর সাথে পারিবারিক কলহ চলছিল। তার বউ সব সময় মোবাইলে কার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে চাইলে তার বউ ভিকটিম পাপিয়া তাকে জুতা দিয়ে প্রহার করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়। স্ত্রী পাপিয়া এর আগেও স্বামীকে ঝাড়ু দিয়ে প্রহার করেছিল। এসব বিষয় নিয়ে বউ’র প্রতি সংক্ষুব্ধ ছিল আবু জাফর হাওলাদার। মনির তাকে জিজ্ঞেস করে, ‘কি জাফর ভাই; তোমাকে নাকি তোমার বউ জুতা দিয়ে মেরেছে।’ এক পর্যায়ে মনির প্রস্তাব দেয় তাকে ১ লক্ষ টাকা দিলে সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। তখন আবু জাফর বলে, ‘চিন্তা করে দেখি’। পরে আবু জাফর তার ভাই আবু তালেবের মাধ্যমে মনিরকে ৩০ হাজার টাকা দেয়। মনির টাকা পেয়ে আবু জাফরকে তার সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে। কাজ হলে বাড়ির লোকজন তাকে জানাবে বলে জানায়। কথা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট আবু জাফরের স্ত্রী পাপিয়া ও মেয়ে সওদা জেনিকে কুপিয়ে হত্যা করে মনির হাওলাদার।

ঘটনার পরের দিন মনির হাওলাদারসহ তার তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু মনির জামিনে বের হলে, আবু জাফর মনিরকে জিজ্ঞেস করে তার বউকে মারার কথা ছিলো; সে কেন তার মেয়েকে মেরে ফেলল। মনির জবাবে তাকে জানায়, তার মেয়ে তাকে চিনে ফেলেছিল তাই তাকে মেরে ফেলেছে। তার লাশ কেনো টুকু মাস্টারের বাড়ি নিলো; এমন প্রশ্নের জবাবে মনির আবু জাফরকে বলে টুকু মাস্টারের সাথে তার অন্য বোঝাপড়া আছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে পাপিয়া আক্তার (৩৮) ও তার মেয়ে সওদা জেনিকে (৫) কুপিয়ে হত্যা করে মনির হাওলাদার ও তার লোকজন। হত্যার পরের দিনই মনিরসহ তার তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিন মাস কারাভোগের পরে তারা জামিনে মুক্ত হয়। পরবর্তীতে পিবিআই বাগেরহাট মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পাপিয়ার স্বামী আবু জাফর হাওলাদার (৩৯), ভাসুর আবু তালেব হাওলাদার (৫৫) ও তার স্ত্রী আসমা বেগম (৪৫) এবং পাপিয়ার আরেক ভাশুর মো. আবু বক্কার হাওলাদার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদেরকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles