9.5 C
Toronto
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪

মনজুর ভাইকে নিয়ে

মনজুর ভাইকে নিয়ে

শুভ জন্মদিন। আমার প্রিয় মনজুর ভাই হচ্ছেন স্বনামধন্য সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ৮০দশকের প্রথম ভাগে আলাপ। তখনকার আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডাক্তার রনজুর বড় বোনেরর স্বামী তিনি। ডাক্তার রনজু স্ত্রী ডাক্তার নাসরীন ও দুই পুত্র সহ থাকতো এ্লিফ্যান্ট রোডের বাটার মোড়ের ভোজ্যতেলের গলিতে। দুই কদম ঢুকেই হাতের ডানে পৈত্রিক বিশাল বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধের সময় উঠোনে ভারতীয় যুদ্ধ বিমানের বোমা পড়ে ছিলো।মনজুর ভাই সেই বাড়িতে থাকতেন না। পাশেই চারতলা বিল্ডিং এ থাকতেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে।

- Advertisement -

মাঝেমধ্যে রনজুর বাসয় দেখা হতো। তিনি ইংরেজীর মানুষ হলেও দরুণ বাংলা গদ্য লিখতেন। ভাষা আন্দোলনের বছর এক আগে তিনি জন্মেছেন আর আমি এক বছর পরে। একমাত্র শ্যালকের বন্ধু হিসেবে তিনি আমাকে তুমি বলতেন আর আমি তাঁকে আপনি। তখনি কিশোর চটি উপন্যাস ‘কুশল আর মৃত্যুবুড়ো’ আর বড়দের গল্পের বই ‘ফিরে যাওয়া’ তখন বেরিয়ে গেছে। মনজুর ভাইয়ের হাতে দিয়েছি। তখন জীবন মুখি একটু অন্য রকম গল্প লিখতাম। যা ফ্যান্টাসির চক্করে পড়ে এখন আর লিখিনা।

তখনাকার আমর লেখা মনজুর ভাই বেশ পছন্দ করে ছিলেন। লেখা ওনাকে দিলে পড়েন,উৎসাহ দিতেন। লেখখালেখির কথা জানতে চাইতেন। তিনিও দরুণ বাংলা গদ্য লিখছেন তখন। একদিন আমর ও ইচ্ছে হলো ওনাকে উৎসাহ দি। সাহস হলোনা। ওনার পড়া শোনা শিক্ষা দীক্ষার ভার আমাকে ভয় পাইয়ে দিলো।

এখন বুঝি আমার ভুল হয়ে ছিলো।তাঁর ব্যক্তিত্ব পান্ডিত্ব শিক্ষার উচ্চতার চেয়ে আসল হচ্ছে তিনি একজন জাত বড় লেখক। কালেক্রমে আজ তিনি স্বমহীমায় উজ্জ্বল। আর আমি লেখালেখিতে ইলেক্ট্রিক বাল্ব ফিউজ হবার আগে যেমন ঝিকমিক করে সেই অবস্থায় আছি। মনজুর ভাই স্নেহ ও করতেন।১৯৯৮ সালে আমার তৃতীয় একক ছবির প্রদর্শনী গ্যালারী ২১ ‘ফ্রম ড্রাকনেস টু লাইট’ এর ক্যাটালগে ইংরেজীতে ইন্ট্রো লিখে দিলেন। পরে ২০০১সলে আমার আঁকার জীবনের টার্নং পয়েন্ট চতুর্থ একক ছবির প্রদর্শনী বেঙ্গল গ্যালারীতে ‘মাইন্ডস্কেপ’ এর ক্যাটালগে কী দারুণ ভাবে লিখে দিলেন আমার প্রদর্শিত ছবি গুলো গ্রীন রোডের বাসায় এসে ছবি গুলো দেখে তারপর। যা আজ ছবি নিয়ে অনেক লেখার মধ্যে অন্যতম।

দুই ফুট বাই দুই ফুট একটি ছবি আমার সৌভাগ্য যে তাঁর পছন্দ হয়ে ছিলো, ক্যানাডা পাড়ি দেয়ার আগে সেই ২০০১ এ ছবিটি তাঁর নীলক্ষেতের তাঁর বাসায় দিয়ে যাই। আজ এই বেলা শেষে যে ক’জন আছেন যাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে আঁকার লেখার উৎসাহ পাই যেমন হাশেম খান,আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ,রামেন্দু মজুমদার,মনিরুল ইসলামের মতই সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও একজন। দীর্ঘজীবী হোন,শুভ জন্মদিন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles