20.9 C
Toronto
বুধবার, জুলাই ২৪, ২০২৪

‘৮ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করেছি’ দাবি করে ফেঁসে গেলেন সেই চেয়ারম্যান

‘৮ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করেছি’ দাবি করে ফেঁসে গেলেন সেই চেয়ারম্যান
ভিডিও থেকে সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারে ইভিএম পদ্ধতির ভোটে নৌকার পক্ষে ৮টি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই আত্মস্বীকৃত যুবলীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে এবার সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল। আদালত মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দিতে বলেছেন। মামলার বাদী কায়সারুল হক জুয়েল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

- Advertisement -

মামলার বিবরণে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর প্রচারণা সভায় গত ৬ জুন উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী এবং হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এস.এম ইমরুল কায়েস চৌধুরী অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

বক্তব্যের সময় অপর মেয়র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা মাশেদুল হক রাশেদের ছোটভাই সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েলের উদ্দেশে ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘কক্সবাজারের ৮টি কেন্দ্রের মধ্যে আমি ভোট ডাকাতি করেছিলাম নৌকার পক্ষে গিয়ে, তুমি (কায়সারুল হক জুয়েল) উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছ। আমি ইমরুল কায়েস যদি না থাকতাম তুমি উপজেলা চেয়ারম্যান হতে পারতে না। এমনকি ইভিএমএর মধ্যেও তোমার জন্য ভোট ডাকাতি করে তোমাকে আমরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বানিয়েছি।

যুবলীগ নেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরীর এমন বক্তব্যের ভিডিও তৎক্ষণাৎ ভাইরাল হয়ে পড়ে। এমন ভিডিও বক্তব্য নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন যুবলীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের এমন বিতর্কিত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন উক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দেন।

নির্দেশের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে ঘটনা তদন্তের নির্দেশসহ পরবর্তীতে উক্ত চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলেও অদ্যাবধি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে বাদী উল্লেখ করেন।

বাদী কায়সারুল হক জুয়েল মামলার আরজিতে আরো উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে লোমহর্ষক মিথ্যা ও মানহানিকর প্রদান করেন যা সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। এ কারণে উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকার বিরোধী বিদ্বেষ ও অস্থিরতা সৃষ্টির মতো অপরাধ সংঘটিত করেন বলে বাদী উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা এস,এম ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে হতদরিদ্র নারীদের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া চাল এবং কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতিমধ্যে দুদকের তদন্তও শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles