2.1 C
Toronto
রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

তরুণীর খণ্ডিত লাশ : অনৈতিক সম্পর্কের জেরে হত্যা

তরুণীর খণ্ডিত লাশ : অনৈতিক সম্পর্কের জেরে হত্যা
প্রতীকী ছবি।

খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকায় ভাড়াবাড়িতে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ওই বাসার ভাড়াটে আবু বক্কর মোল্লা এবং তার সঙ্গে থাকা স্বপ্না খাতুনকে গত রোববার রাতে গাজীপুর থেকে আটক করা হয়। তরুণীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাঁর দুই হাতের বিচ্ছিন্ন কবজিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আবু বক্কর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে র‌্যাবকে জানিয়েছে, শারীরিক সম্পর্কের সময় বাকবিতণ্ডার জেরে কবিতা রানী নামে ২৭ বছরের ওই তরুণীকে সে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। আর মরদেহ গুম করতে দুই হাতের কবজি কাটে।

- Advertisement -

র‌্যাব জানায়, রোববার রাতে গাজীপুর থেকে আবু বক্কর ও স্বপ্নাকে গ্রেপ্তারের পর খুলনায় নিয়ে আসা হয়। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে তাকে নিয়ে নগরীর গোবরচাকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ড্রেন থেকে ওই তরুণীর বিচ্ছিন্ন কবজি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৬ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, তাঁরা প্রযুক্তির সহায়তায় ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করেছেন। নিহত কবিতা রানী নগরীর জোড়াগেট এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া কালীপদ বাছাড়ের মেয়ে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনী উপজেলায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, আবু বক্করের সঙ্গে কিছু দিন আগে কবিতার পরিচয় হয়। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গত শনিবার রাতে আবু বক্কর তাঁকে গোবরচাকা এলাকার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক সম্পর্কের পরে তাঁদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ওই সময় আবু বক্কর উচ্চ স্বরে কথা বলতে কবিতাকে নিষেধ করে। কবিতা তা না শুনলে আবু বক্কর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরে বঁটি দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার জন্য হাতের কবজি আলাদা করেছিল আবু বক্কর। এর মধ্যে সহায়তার জন্য দুই বন্ধুকে ফোন করলে তারা আসেনি। পরে আবু বক্কর তার কথিত স্ত্রী নার্স স্বপ্নার কর্মস্থলে গিয়ে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এর আগে রোববার সকালে গোবরচাকা এলাকার রাজু খাঁর ভাড়া বাসা থেকে ওই তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে বাড়ির মালিকসহ প্রতিবেশীরা কেউ কবিতাকে শনাক্ত করতে পারেনি। পরে সোনাডাঙ্গা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে রাতে মামলা করে। এতে ওই বাসার ভাড়াটে আবু বক্কর, তার কথিত স্ত্রী স্বপ্না খাতুন এবং অজ্ঞাত পরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই রহিত কুমার বিশ্বাস জানান, ময়নাতদন্ত শেষে কবিতার মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। র‌্যাব সদস্যরা বিকেলে আবু বক্কর ও স্বপ্নকে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কবিতা যৌনপেশায় যুক্ত ছিলেন বলে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার স্বপ্না স্ত্রী পরিচয়ে আবু বক্করের সঙ্গে চার বছর ওই বাসায় থাকলেও তারা বিয়ে করেনি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles