4.4 C
Toronto
মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৯, ২০২২

অজ্ঞাত ফোন পেয়ে বাড়ি গিয়ে দেখেন মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে

অজ্ঞাত ফোন পেয়ে বাড়ি গিয়ে দেখেন মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে

দিনমজুর বাবার স্বপ্ন ছিল একমাত্র মেয়ে রানী আক্তার মিমকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভাল একটা চাকরিতে যোগ দিবে। আর মায়ের স্বপ্ন ছিল যদি চাকরি না পায় তাহলে অন্তত ভাল একটা ছেলের (পাত্র) হাতে তুলে দিবে তাকে। তাদের স্বপ্ন অনুযায়ী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মেয়েকে মানুষ করার চেষ্টা চালিয়ে যান মা-বাবা। তবে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের আগেই প্রেমের ফাঁদে পড়ে আত্মহত্যা করে মিম। এতে মুহূর্তেই মা-বাবার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।

- Advertisement -

নিহত রানী আক্তার মিম ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের দিনমজুর আফছার মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি সালথা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে ঝগড়া করে মিম ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বলে তার পরিবার দাবি করেন। তবে প্রেমিক ছেলেটির নাম ও ঠিকানা জানাতে পারেনি কেউ।

মিমের বাবা আফছার মাতুব্বর বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমি ও আমার স্ত্রী বাড়ির পাশে একটি মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে যাই। মিলাদে যাওয়ার পর একটা ছেলে আমাকে ফোন করে বলে, আপনি তাড়াতাড়ি বাড়িতে যান। বাড়ি গিয়ে দেখেন আপনার মেয়ের কি অবস্থা। আমি স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। এরপর থেকে ওই ছেলের ফোন বন্ধ। তবে তার ছবি রয়েছে আমার মেয়ের মোবাইলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নেওয়ার সময় মেয়ের ফোনও নিয়ে গেছে। আমাদের ধারণা ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের সম্পর্ক ছিল।

তিনি বলেন, ঘটনার আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের ঝগড়া হয়। পরে অভিমান করে আমার একমাত্র মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আমি ওই ছেলের সন্ধান চাই। পাশাপাশি ওর বিচার চাই। আমি গরীব মানুষ। তারপরেও মেয়েটা নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। ওকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলাম।

মিমের মা মোছা. নাজমা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। আরেক ছেলে ছোট। আর একমাত্র মেয়ে মিমকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। ওকে উচ্চশিক্ষা দিয়ে ভাল একটা চাকরি দিতে না পারলেও ভাল একটা চাকরিজীবী ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। সেই স্বপ্ন আজ মাটির নিচে চলে গেল।

মিমের চাচা উকিল মাতুব্বর বলেন, মিমের সঙ্গে একটা ছেলে প্রেম সম্পর্ক ছিল। ধারনা করছি- ওই ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে রাগারাগি করে আত্মহত্যা করেছে মিম।

গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু বলেন, আমি স্থানীয়দের কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে সম্ভবত মেয়েটা তার প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : যুগান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles