4.4 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২২

পরিচারিকাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, রেখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে চেয়ারই ভেঙে ফেলেন ওম পুরী!

পরিচারিকাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, রেখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে চেয়ারই ভেঙে ফেলেন ওম পুরী!
ওম পুরী

ওমপ্রকাশ পুরী। নিজের অভিনয় দক্ষতায় বলিউড থেকে শুরু করে মরাঠি, পাকিস্তানি এবং হলিউডেও একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। বড় পর্দায় ওমপ্রকাশের অভিনয় দেখে দর্শকমহল প্রশংসা করলেও অভিনেতার ব্যক্তিজীবনের এমন কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যা জানার পর তার উদ্দেশে কুমন্তব্য করেছিলেন অনেকেই।

অভিনেতার প্রাক্তন স্ত্রী নন্দিতা পুরীই তার জীবনের গোপন সত্য প্রকাশ্যে আনেন। অভিনেতার জীবনকাহিনির ওপর ভিত্তি করে একটি বই লেখেন নন্দিতা। সেই বইতে ওমের জীবনের গোপন কথাগুলো উল্লেখ করেন তিনি। বইতে নন্দিতা লেখেন, অভিনেতার যখন ১৪ বছর বয়স, তখন বাড়ির পরিচারিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন তিনি। একাধিক বার নাকি সেই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কেও জড়ান ওম।

- Advertisement -

নন্দিতা জানান, তখন সেই পরিচারিকার বয়স ছিল ৫৫ বছর। কৈশোর অবস্থায় নিজের থেকে ৪১ বছরের বড় এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন ওম, তা-ও আবার পরিচারিকার সঙ্গে! এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বলিউডে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে অভিনেতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তীর্যক সুরে জানান, একজন ১৪ বছর বয়সী ছেলে ৫৫ বছর বয়সী নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলে সেখানে কার দোষ বেশি? ছেলেটির না সেই নারীর? শুধু তাই নয়, বইতে নন্দিতার দাবি, লক্ষ্মী নামে আরো এক নারীর সঙ্গে নিয়মিত যৌনাচারে লিপ্ত হতেন ওম। ওই নারীও তার বাড়িতে থাকতেন বলে জানা যায়। নন্দিতা তার লেখা বইয়ে সেই ঘটনাটিরও বর্ণনা করেন।

ওমপ্রকাশ অবশ্য লক্ষ্মীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও মুখ খোলেন। অভিনেতা জানান, ছোট থেকে ওম মানুষ হয়েছেন লক্ষ্মীর কাছেই। ‘লক্ষ্মী নিঃস্বার্থ হয়ে যেভাবে আমাকে বড় করে তুলেছেন, আমার সঙ্গে তার যেমন সম্পর্ক ছিল, তা আমার প্রতি তার দায়িত্ব এবং আনুগত্যের প্রতিদান’- বলেন অভিনেতা।

অভিনেতা আরো জানান, মহাত্মা গান্ধীও তার আত্মজীবনীতে একান্ত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিষয়গুলো খারাপ চোখে দেখার কিছু নেই বলেও জানান ওম। ‘আমার জীবনের গোপন কথাগুলো নন্দিতাকে বলেছিলাম আমার স্ত্রী বলে। বই লেখার সময় ও আমার যৌনজীবন নিয়ে এমন ভাবে লিখেছে, যেন আমি সারা জীবনে আর কিছুই করিনি’- বলেন অভিনেতা।

হঠাৎ নন্দিতা কেন তার জীবনের ওপর বই লিখলেন- এ প্রশ্ন করা হলে অভিনেতা জানান, বইটি আসলে অন্য একজন লিখবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু নন্দিতা নিজে থেকেই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখান। তাই অভিনেতাও নাকি তাকে আর বাধা দেননি। নন্দিতার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ওম বলেন, ‘আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো বাদ দিয়ে সস্তা গল্পে ভরিয়ে দিয়েছে। দুনিয়ায় বাকি স্বামীরাও যেমন তাদের স্ত্রীর সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করেন, আমিও করেছিলাম। নন্দিতা নিজের জায়গা ভুলে গিয়ে এ বই লিখেছেন। সবার সামনে নিয়ে আসার আগে তার একবার আমার মান-সম্মানের কথা ভাবা উচিত ছিল।’

বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর অভিনেতার যৌনজীবন নিয়ে বহু বিতর্কও হয়। সে প্রসঙ্গে উঠে আসে অভিনেতার একটি সিনেমার যৌনদৃশ্যের কথাও। ১৯৯৫ সালে বাসু ভট্টাচার্যের পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘আস্থা : ইন দ্য প্রিসন অব কিং’ ছবিটি। এই ছবিতে ওম পুরীর সঙ্গে অভিনয় করেন রেখা। ছবিতে বহু দৃশ্যে দুই তারকাকে ঘনিষ্ঠ দেখানো হয়েছিল। এমনই এক দৃশ্যে চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গিয়েছিল রেখা এবং ওমকে। কানাঘুষো শোনা যায়, শুট চলাকালীন তারা নাকি সত্যিই একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন। সেই সময় তাদের ওজন নিতে না পারায় সেটের মধ্যে চেয়ারটি ভেঙেও যায়।

তবে অভিনেতাকে নিয়ে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। এর আগেও তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যার জন্য তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও উঠেছিল। উরি হামলা প্রসঙ্গে অভিনেতা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘জওয়ানদের সেনাদলে যুক্ত হতে কে বলেছিল? কে বলেছিল হাতে অস্ত্র তুলে নিতে?’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে সেনাদের অপমান করায় অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। পরে অবশ্য এ নিয়ে ওম ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

নকশালদের নিয়ে মন্তব্য করেও বিতর্কে এসেছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে ওম বলেন, ‘নকশালরা আতঙ্কবাদী নন। তারা রাস্তায় বোমা ফেলে সাধারণ মানুষ বা গরিবদের ভয় দেখান না। নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেন তাঁরা।’ একটি ছবিতে নকশাল আন্দোলনকারীর চরিত্রে অভিনয় করার সময়ও তিনি এই কথা বলেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles