19.2 C
Toronto
সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২

মাদক ব্যবসায়ী নয়, এবার র্যাবের জালে মাদক বিজ্ঞানী

- Advertisement -

গবেষণা করে নতুন মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওনাইসী সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদ (৩৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে কুশ, হেম্প, মলি, এক্সট্যাসি, ফেন্টানলের মতো মাদক জব্দ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের একটি স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেন সাইদ। তারপর ব্যাচেলর অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) করতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি মালয়েশিয়া মাস্টার অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) করেন। দেশে ফিরে প্রথমে বাবার টেক্সটাইল ব্যবসা দেখাশোনা শুরু করেন সাঈদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিদেশে পড়া অবস্থায় বিভিন্ন মাদকের সঙ্গে পরিচিত হন সাইদ। বাবার ব্যবসায়ের পাশাপাশি দেশে নতুন ধরনের মাদকের প্রচলন ও বাজার সৃষ্টির পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে নানা ধরনের মাদক নিয়ে আসতেন। দেশের বিভিন্ন অভিজাত পার্টিতে তিনি এসব মাদক সরবরাহ করতেন।

র‌্যাব জানায়, সাইদ নিজে শুধুমাত্র ধূমপান ও মদে আসক্ত। কিন্তু গবেষণা করতেন বিভিন্ন নতুন প্রজাতির মাদক নিয়ে। নিজের বাসায় মাদক উৎপাদনের প্ল্যান্ট তৈরি করেন। তার ইচ্ছা ছিল নতুন মাদক নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। হতে চেয়েছিলেন মাদক বিজ্ঞানী। কীভাবে নতুন ধরনের মাদক সেবন করা যায়, তার জিনিসপত্র কী হবে সেটিও পরিকল্পনা করতেন সাইদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোমবার রাতের অভিযানে সাইদের গুলশানের বাসা থেকে ১০১ গ্রাম কুশ, ৬ গ্রাম হেম্প, ০.০৫ গ্রাম মলি, ১ গ্রাম ফেন্টানল, ১৮ গ্রাম কোকেন, ১২৩ পিস এক্সট্যাসি, ২৮ পিস এডারল ট্যাবলেট জব্দ করে র‌্যাব। এ ছাড়া তার বাসা থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও ৫০ লাখ টাকা সমমূল্যের মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, সাইদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তার মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাটেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাপ নিয়ন্ত্রণ গ্রো-টেন্টের মাধ্যমে বিদেশি প্রজাতির কুশ তৈরির প্ল্যান্ট ও সেটআপ জব্দ করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে প্ল্যান্টটি স্থাপন করেছিলেন সাঈদ।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক ওনাইসী সাঈদ ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু বিদেশে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা বাড়াতে নতুন ধরনের মাদক নিয়ে আসতেন। বিভিন্ন পার্টিতে ও নিজ সার্কেলে এসব মাদক ছড়িয়ে দিতেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ফয়সাল নামে একজনের নাম জানতে পেরেছি। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা। ২০১৬ সাল থেকে ফয়সাল বিদেশে অবস্থান করছেন। প্রথমে থাইল্যান্ডে বসবাস করলেও বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। তিনিই মূলত সাইদকে বিভিন্ন ধরণের অপ্রচলিত মাদক সরবরাহ করে আসছেন।’

খন্দকার মঈন বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন মাদক এক্সট্যাসির অন্যতম মূলহোতা সাঈদ। তিনি গত প্রায় ৪ বছর ধরে এক্সট্যাসিসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। এসব মাদক তিনি পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করতেন। পার্সেলগুলো তিনি নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবের নামে নিয়ে আসতেন। অবশ্য তারা কেউ এ সম্পর্কে জানতেন না।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘সাঈদ ঢাকার বিভিন্ন পার্টিতে যখন এসব মাদক সরবরাহ করতেন, যাদের মাধ্যমে পাঠাতেন তারাও জানতেন না প্যাকেটের ভেতরে কী আছে। এসব মাদকের মূল্য হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধ করতেন সাইদ। দেশে তার ক্রেতা বিভিন্ন অভিজাত পরিবারের সদস্য।’

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles