
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। কনজারভেটিভ ককাস থেকে বেরিয়ে আসা একাধিক প্রাদেশিক আইনপ্রণেতা এবার একত্র হয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, বর্তমান কনজারভেটিভ দলের বাইরে এমন একটি মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য, যেখানে স্থিতিশীলতা ও বাস্তবভিত্তিক নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন উদ্যোগটির নেতৃত্বে রয়েছেন পিটার মিলোবার। তাঁর সঙ্গে শুরু থেকেই রয়েছেন ইয়ান প্যাটন। শুক্রবার আরও তিন সাবেক কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতা রোজালিন বার্ড, ব্রুস ব্যানম্যান এবং আ’লিয়া ওয়ারবাস—এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনও দলটির স্থায়ী নাম নির্ধারণ করা হয়নি। আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত মিলোবার অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ১৪ আগস্ট কনজারভেটিভ ককাস থেকে বেরিয়ে আসার পরই মিলোবারকে ঘিরে নতুন দল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা দল ছাড়ায় প্রাদেশিক আইনসভায় বিরোধী রাজনীতির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে।
নতুন দলের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, শরৎকালীন আইনসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা একটি সংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড় করাতে চান। তাঁদের যুক্তি, স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হিসেবে আলাদাভাবে কাজ করার তুলনায় একটি দল হিসেবে সংসদীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে নিজেদের অবস্থান আরও সমন্বিতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। মিলোবারের বক্তব্য, নতুন দল গঠনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ নেই। দলীয় কাঠামো তৈরি, নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং নেতৃত্বের বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করাই এখন তাঁদের সামনে প্রধান কাজ।
নতুন উদ্যোগে যোগ দেওয়া কয়েকজন আইনপ্রণেতা কনজারভেটিভ দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন। ব্রুস ব্যানম্যানের অভিযোগ, দলের মধ্যে সদস্যদের কতটা ডানপন্থী অবস্থানে থাকা উচিত, তা নিয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক যাচাইয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও উদ্বেগের চেয়ে দলীয় মতাদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন দলের উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, তাঁরা এমন ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চান যারা ক্ষমতাসীন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির সরকারের নীতির সঙ্গে একমত নন, কিন্তু একই সঙ্গে বর্তমান কনজারভেটিভ দলের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও নিজেদের পুরোপুরি একাত্ম মনে করেন না।
নতুন দলের পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে উদ্যোক্তারা প্রাথমিকভাবে চারটি ক্ষেত্রের কথা সামনে এনেছেন অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার। তাঁদের বক্তব্য, এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক নীতি তৈরি করে প্রদেশের মধ্য-ডানপন্থী ভোটারদের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক জায়গা তৈরি করা যেতে পারে।
আ’লিয়া ওয়ারবাস বলেছেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রস্তুতির জন্য সময় খুব বেশি নেই। তাঁর মতে, নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির সরকারকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে এখন থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ শুরু করা প্রয়োজন। ব্যানম্যানও মনে করেন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মধ্য-ডানপন্থী ভোটারদের সামনে কনজারভেটিভদের বাইরে আরেকটি রাজনৈতিক বিকল্প থাকা দরকার।
২০২৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেটিভরা ৪৪টি আসন পেয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। কিন্তু নির্বাচনের পর একাধিক আইনপ্রণেতার দলত্যাগের ফলে তাদের ককাসের আকার কমেছে। সাবেক নেতা জন রাসটাডের সময় শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন পরবর্তী নেতৃত্বেও পুরোপুরি থামেনি। একের পর এক দলত্যাগের ফলে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নতুন দল গঠনের উদ্যোগকে অবশ্য সবাই একইভাবে দেখছেন না। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া গ্রিন পার্টির নেতা এমিলি লোয়ান মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জলবায়ু সংকটের মতো বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাসীন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টিও নতুন উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, নতুন দলটি মূলত কনজারভেটিভ রাজনীতিরই আরেকটি সংস্করণ এবং এতে প্রদেশের রাজনৈতিক অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে না।
নতুন দলটি আইনসভায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে সংসদীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে আলাদা বাজেট ও সাংগঠনিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই শরৎকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই দলীয় নিবন্ধন, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর কাজ এগিয়ে নিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
তবে নতুন দলটি শেষ পর্যন্ত কতটা সংগঠিত হতে পারে এবং প্রাদেশিক রাজনীতিতে তাদের অবস্থান কতটা শক্ত হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। আপাতত একের পর এক কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতার দলত্যাগ এবং নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিরোধী রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

