20.2 C
Toronto
শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২

মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্যা ওয়ার্ল্ড (এম এল এল ডাব্লিউ) সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

- Advertisement -
মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্যা ওয়ার্ল্ড (এম এল এল ডাব্লিউ) সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্যা ওয়ার্ল্ড (এম এল এল ডাব্লিউ) সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা

বিশ্বব্যাপী দেশ, জাতি এবং গোত্র নির্বিশেষে সকল মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে গঠিত “মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্যা ওয়ার্ল্ড (এম এল এল ডাব্লিউ)” সোসাইটির ২০২০ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভার্চুয়েল প্রযূক্তিতে জুম মিটিং এর মাধ্যমে। এই বছরের মূল শ্লোগান ছিল – “ সংগঠন, সমৃদ্ধকরন এবং সম্প্রসারন”।সময়ের বিবর্তনেবিশ্বব্যাপি বিভিন্ন জাতি গোষ্টির মাতৃভাষার বিলুপ্তি ঘটছে প্রতি দিনই। বাংলা ভাষা সহ পৃথিবির সকল ভাষার সংরক্ষণ, উন্ন্রয়ন, এবং বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষাকরনের স্বার্থে এই সভায় বিভিন্ন বাস্তবধর্মী কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এম.এল.এল.ডাব্লিউ এর সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ডঃ আবদুল মতিন, মহাসচিব শাহানা আক্তার মহুয়া, পরিচালক (গবেষনা ও উন্নয়ন) ডঃ সানজিদা হাবিব স্বাথী, পরিচালক (আইসিটি) মোঃ মহিবুল ইসলাম পান্থ, পরিচালক (অর্থ ও মাল্টি কালচারাল ইভেন্ট)সরকার মুশফিকুল আরেফিন, পরিচালক (বাস্তাবয়ন) শাহ বাহাউদ্দিন শিশির – অটোয়া, পরিচালক (বাস্তাবয়ন) সাইফুল ভুঁইয়া – উইন্ডসর, পরিচালক (বাস্তাবয়ন) খায়রুল হক চৌধুরী রুবেল – ক্যালগারি সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যগন।

- Advertisement -

গত উনিশে ডিসেম্বর শনিবার বেলা পাঁচ ঘটিকায় (প্যাসিফিক টাইম)এই সভা শুরু হয়। সভায় কানাডার বিভিন্ন শহর এবং প্রদেশ থেকে প্রতিনিধিরা যুক্ত হন। বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২০ সালের কার্যক্রম ও আর্থিক বিবরণী পেশ করার পাশাপাশি আগামী বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতি তার দায়িত্বের মেয়াদ চলতি বছরেই শেষ হবে বলে জানান। তিনি এই সভাতেই একজন নতুন সভাপতি নির্বাচনেরও আহ্বান জানান।

আলোচ্যসূচি অনুসারে বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সভায় উপস্থাপন করেন এমএলএলডাব্লিউ এর সভাপতি। কন্ঠভোটে কার্যবিবরণী অনুমোদন করেন উপস্থিত সদস্যরা। সভাপতির সম্মতিক্রমে মহাসচিব শাহানা আক্তার মহুয়াচলতি বছরের কর্মকান্ডের বিবরণী এবং পরিচালক (অর্থ)সরকার মুশফিকুল আরেফিনআর্থিক প্রতিবেদন পেশ করেন। ২০২০ সালের কার্যক্রম, প্রতিবেদন এবং আগামী অর্থ বছরের জন্য সোসাইটির বাজেটের উপর সভায় উপস্থিত সদস্যরা তাদের মতামত প্রদান করেন। সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও মতামতের উত্থাপিত কার্যক্রম, আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়।

সোসাইটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এম.এল.এল.ডাব্লিউ হচ্ছে মাতৃভাষা সংরক্ষনে নেতৃত্ব দেয়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংগঠন। বিশ্বব্যাপীমাতৃভাষার উন্নয়ন, লালন এবং সরক্ষনে এই সংগঠন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং পরবর্তিতে স্যারি সিটির আর্থিক অনুদানে কানাডায় ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়“লিঙ্গুয়া একুয়া(Lingua Aqua)”নামে কানাডার সর্ব প্রথম মাতৃ-ভাষা স্তম্ভ। এখন সময় এসেছে আমাদের উদ্যোগ নেয়ার, যার মাধ্যমে এ রকমের ভাষা স্তম্ভ তৈরি হবেকানাডা এবং বিদেশের বিভিন্ন সিটিতে।

তিনি আরো বলেন, করোনা কালীন সময়েও আমার কার্যক্রম থেমে নেই।অনলাইনে এবংভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে আমাদের কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই আমাদের অটোয়া প্রতিনিধি শাহ বাহাউদ্দিন শিশিরের প্রচেষ্টার ফলে অটোয়া ক্যাথলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডে আমাদের মাদার ল্যাংগুয়েজ ইমপ্লিমেন্টেশন মডেল তথা অ্যাকশন প্ল্যান উপস্থাপিত হয়েছে। আশাকরা যায় এটি সেখানকার স্কুল সিস্টেমে সাদরে গৃহিত হবে। এ ধরনের মডেল সংগঠনের স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কানাডার বিভিন্ন সিটিতে এবং সিটির স্কুল ড্রিস্ট্রিটেও উপস্থাপনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।তিনি সভাকে জানান আমাদের সাংগঠনিক ব্যপ্তি বিস্তৃতহচ্ছে। এম এল এল ডব্লিও এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছে গওহর রিজভি, যিনি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। খুব শিঘ্রই ইউ. কে এবং অস্ট্রেলিয়াতেও সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে। সবই আমাদের এই বছরের নিরলস কাজের ফলশ্রুতি।

এম.এল.এল.ডাব্লিউ এর পরিচালক (বাস্তাবয়ন)সাইফুল ভুঁইয়া বিবিধ আলোচনায় ফ্লোর নিয়ে কিছু প্রস্তাবনা সভার সদস্যদের সক্রিয় বিবেচনার জন্য তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে –

১। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে একটি ম্যাগাজিন বের করা, যাতে সংগঠনের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরা যেতে পারে।

২। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্কুল পর্যায়ে বাস্তবায়নের মডেলটিকে “বিসিমডেল” এর পরিবর্তে “এমএলএলডাব্লিউ”মডেলনামে আখ্যায়িত করে তা বিভিন্ন সিটির স্কুল বোর্ডে উপস্থাপন করা।

৩। সংগঠনের লাইফ মেম্বারশিপ ফি ২০০ ডলার ধার্য করা এবং সকল ডিরেক্টরদেরকে আজীবন সদস্যপদ গ্রহনের আহ্বান জানানো।

৪। সংগঠনের বহুমুখী কার্যক্রম গণ-মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। প্রয়োজনে কমিটি গঠন করে তা বাস্তবায়ন করা।

জনাব ভুঁইয়ার উত্থাপিত বিষয়গুলোর অধিকাংশই উপস্থিত সদস্যদের অনুকুল মতামত পায় এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে “বিসি মডেল” নামটি আরো সুচিন্তিত করে পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন সিনিয়র ভিপি জনাব মতিন এবং সভার সদস্যগন তাতে সমর্থন দেন।

সভা সমাপ্তির আগেই ফ্লোরে উত্থাপিত হয় সোসাইটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব। ডিরেক্টর আইসিটি মোঃ মহিবুল ইসলাম পান্থ এর প্রস্তাবনায় এবং ডিরেক্টর ইমপ্লিমেন্টেশন শাহ বাহাউদ্দিন শিশিরের সমর্থনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোঃ আমিনুল ইসলাম মাওলাকে আরো এক মেয়াদের (ছয় বছরের) জন্য পুনঃ নির্বাচনের বিষয়টি ফ্লোরে আসে। উপস্থিত সকল সদস্যদের হ্যাঁ সূচক কন্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি সর্ব সম্মতভাবে সভায় গৃহিত হয়।

সংগঠনের নব নির্বাচিত সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম মাওলা সবাইকে আসছে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles