4.2 C
Toronto
শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১

সহস্রাব্দে একবার তাপগম্বুজ, তাতেই কি কানাডায় এত মৃত্যু!

তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে। ছবি- টুইটারের সৌজন্যে।

প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেল কানাডার তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দেশের পশ্চিমপ্রান্তের প্রদেশ ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় তাপমাত্রা ৪৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। তিনগুন বেড়েছে স্বাভাবিক মৃত্যুর হার। গত পাঁচ দিনে পশ্চিম কানাডার এই প্রদেশে ৪৮৬ জন মারা গিয়েছেন। যেখানে বছরের অন্য সময়ে পাঁচ দিনে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় স্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা থাকে ১৬৫। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রধান জন হোরগান অবশ্য জানিয়েছেন, এই মৃত্যু সংখ্যার গোটাটাই যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে, তা বলা যায় না। তবে একসঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা এতটা বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে যে তাপমাত্রাই একটা বড় কারণ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেই সঙ্গে হোরগ্যান মেনে নিয়েছেন, ‘‘এই জলবায়ু সঙ্কট যে নেহাৎ কথার কথা বা কল্পনা নয় বরং ঘোর বাস্তব, তা গত কয়েকদিনে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন কানাডার মানুষ।’’

কিন্তু কেন ভয়ঙ্কর তাপপ্রবাহে পুড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর পশ্চিমাংশ? কেন গা পোড়ানো তাপে এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা কানাডার? কত দিন ধরেই বা চলবে এই তাপপ্রবাহ?

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এর জন্য তো বিশ্ব উষ্ণায়ন অবশ্যই দায়ী। যার জন্য দায়ী মানুষই। উত্তরোত্তর বেড়ে চলা গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ উষ্ণায়নের গতি বাড়াচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও একটি কারণ রয়েছে। যার নাম তাপগম্বুজ (হিট ডোম)। যা এক হাজার বছরে একবার হয়।

আবহবিজ্ঞানের পরিভাষায় তাপগম্বুজ বলতে বোঝায় অত্যন্ত উষ্ণ বায়ুর সুউচ্চ পাহাড়। যার মধ্যে খুব আলোড়ন হয়। ফলে বিশাল বিশাল তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে যখন সেই উষ্ণ বাতাস খুব জোরে বইতে থাকে তখন তার মধ্যে আরও বেশি তরঙ্গের জন্ম হয় বলে তা দ্রুত প্রসারিত হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বায়ুমণ্ডল তার নির্দিষ্ট চাপ বজায় রাখতে গিয়ে সেই তরঙ্গকে বেশি দূর এগোতে বাধা দেয়। তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে ধরে রাখে। এই ভাবেই তৈরি হয় তাপগম্বুজ।

কানাডার ক্ষেত্রে এ বার সেটাই ঘটেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর পশ্চিম দিকের বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরের এখন এটাই অবস্থা। যা উষ্ণ বায়ুর তরঙ্গকে এগোতে বাধা দিচ্ছে। তাকে একটি জায়গায় আটকে রাখছে।

তাপমাত্রা এতটা বাড়ছে কেন?

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা, এর ফলে ওই এলাকার বায়ুমণ্ডলে খুব সঙ্কোচন ঘটছে। বায়ু প্রসারিত হতে না পেরে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। তার জন্য যে বাড়তি চাপের জন্ম হচ্ছে তা থেকেই তাপশক্তির উদ্ভব হচ্ছে। সেই তাপপ্রবাহ উপর থেকে নীচে নেমে আসছে বলে আরও তাপশক্তির জন্ম হচ্ছে। এমন ঘটনা এক হাজার বছরে হয় এক বার। তবে তার মানে এই নয় যে আগামী ১ হাজার বছরের মধ্যে এমন ঘটনা আর ঘটবে না ওই এলাকায়। সেটার কারণ হবে উষ্ণায়ন। যার জন্য দায়ী মানুষই।

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles