15.3 C
Toronto
রবিবার, মে ২২, ২০২২

আবুল খায়ের গ্রুপের ১২ কোটি টাকার গ্যাস জালিয়াতি

- Advertisement -

আবুল খায়ের গ্রুপের ১২ কোটি টাকার গ্যাস জালিয়াতি - The Bengali Times

আবুল খায়ের স্টিল লিমিটেডের (একেএস) বিরুদ্ধে গ্যাস জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটি ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকার বকেয়া বিলের তথ্য গোপন করে প্রভাব খাটিয়ে ও ঘুষ দিয়ে অবৈধভাবে ৩টি সংযোগে লোড দ্বিগুণ করে নিয়েছেন। শুধু বকেয়ার তথ্য গোপন নয়, ক্যাপটিভ পাওয়ারে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও এগুলো ছাড়াই সংযোগ পাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

- Advertisement -

আবার ফাইল অনুমোদন হওয়ার দুই দিন আগেই সংযোগ পেয়ে জালিয়াতির রেকর্ড গড়েছে আলোচিত ওই কোম্পানিটি। কেজিডিসিএল (কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি:) নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গ্যাসের লোড বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম দুদকে ওই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন একজন সহকারী পরিচালক। তদন্ত রিপোর্টে আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সুপারিশ করা হয়েছে। ওই তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পর থেকেই ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।

অবাক করার বিষয় হচ্ছে একেএস’র গ্যাস সংযোগ নথিটি ২০১৯ সালে ৯ জানুয়ারি উত্থাপিত হলে তৎকালীন কেজিডিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্র ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নথিতে সংযুক্ত করে পুনরায় নথিটি অনুমোদন নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু একটি চক্র নিজেরা অবৈধ সুবিধা নিয়ে কোয়ারি দেওয়ার ২দিন পূর্বেই (৭ জানুয়ারি ২০১৯) গ্যাস সংযোগ প্রদান করেন মর্মে প্রমাণ পায় দুদক।

সূত্র জানায়, একেএস’র সীতাকুন্ডের শীতলপুর কারখানায়(শিল্প খাত কোড নং- ৬৩১১, ক্যাপটিভ পাওয়ার খাত কোড নং-৬৩১১) ওই গ্যাস সংযোগ বিদ্যমান। চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশল ও পরিকল্পিতভাবে বর্ণিত গ্রাহককে দুই গুন লোড লোড বৃদ্ধি করে দেন কেজিডিসিএল। যখন গ্যাসের লোডটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন কোনো বিতরণ কোম্পানির হাতে এই ক্ষমতা ছিল না। গ্যাস সংযোগ প্রদান কিংবা লোড বাড়িয়ে দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির পুর্বানুমোদন আবশ্যক ছিল। কিন্তু একেএস’র সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে ওই কমিটির কোনো পুর্বানুমোদন নেওয়া হয় নি। তখন ওই দুটি সংযোগের বিপরীতে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৭১ হাজার ৩৪৪ টাকা মিনিমাম গ্যাস বিল বকেয়া ছিল। সংযোগ প্রদানের সময় বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যায় কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ। এতে করে রাজস্ব বঞ্চিত হয় গ্যাস কোম্পানিটি।

দুদকের অনুসন্ধান বলা হয়েছে, কেজিডিসিএল’র প্রচলিত নিয়মানুযায়ী যেকোন গ্রাহকের নথি উপস্থাপন করতে হলে গ্রাহকের পূর্বের নথির কার্যক্রমের ইতিহাস সার সংক্ষেপ একনজরে নথির শুরুতে আবশ্যিকভাবে তুলে ধরার নিয়ম রযেছে। অর্থ্যাৎ গ্রাহকের বিদ্যমান গ্যাস সরঞ্জাম, অনুমোদিত ঘন্টা প্রতি লোড, দৈনিক লোড, মাসিক লোড, চালনা ধাঁচ পরিবর্তন হলে মাসিক কত লোড বৃদ্ধি পাবে তার পাশা-পাশি আরো প্রয়োজনীয় সংশ্লিষ্ট তথ্যাবলী। কিন্তু আবুল খায়ের স্টীলের নথির ক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সাবেক এমডি ও তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও অন্যান্যরা একপাতার নথি উপস্থাপন যাতে করেন। এক পাতার কম্পিউটার প্রিন্টেড নোটে গ্রাহকের পূর্বের অনুমোদিত লোডের চেয়ে অবৈধভাবে ২১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৬ ঘন মিটার লোড বৃদ্ধি করা হয় মর্মে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গ্রাহকের প্রথম গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময় যেভাবে বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত তথ্য দিয়ে নথি উপস্থাপন করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের নামে সমপরিমান লোড বৃদ্ধিও নথিতে বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত তথ্য দিয়ে নথি উপস্থাপন করা উচিত ছিল। অনুসন্ধানকালে দুদক অন্যান্য কয়েকজন গ্রাহকের নথি পর্যালোচনা করে দেখেন প্রতিটি নথিতে বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যতিক্রম শুরুমাত্র আবুল খায়ের গ্রুপের বর্ণিত ৩টি প্রতিষ্ঠানের সংযোগে।

কোম্পানিটির সীতাকুন্ডের শীতলপুরে অবস্থিত আবুল খায়ের স্টিল লিমিটেড’র (গ্রাহক সংকেত শিল্প-৬৩১১) অনুমোদিত লোড ২১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৬ ঘনমিটার থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ, একই ঠিকানায় থাকা ক্যাপটিভ পাওয়ারে (গ্রাহক সংকেত শিল্প-৬৩১১) ২১ লাখ ৬২ হাজার ৯৭২ ঘন মিটার থেকে বাড়িয়ে লোড দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়। মাদামবিবিরহাটে অবস্থিতি আবুল খায়ের লিমিটেড (গ্রাহক সংকেত শিল্প ৬২৪১) ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬০৪ থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেন, আবুল খায়ের গ্রুপের ওই ৩টি প্রতিষ্ঠানে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৮ ঘন মিটার লোড বৃদ্ধি করা হয় পৃথক আদেশে। এতে কয়েক কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

দুদকের তদন্তে চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের আড়ালে আরও একটি মহাদুর্নীতির প্রমাণ উঠে আসে। এতে দেখা গেছে, চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের আড়ালে লোড বৃদ্ধি আগেই মাসিক ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬০৪ ঘনমিটারের পরির্বতে ৭ লাখ ৪৩ হাজার ২০৮ ঘন মিটারে গ্যাস ব্যবহার করার প্রমাণ পায় দুদক। ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি (শিল্প-৬২৪১) ন্যূনতম লোডে গ্যাস বিল আদায়ের বিষয়টি আসেনি। যদি আবুল খায়ের লিমিটেড (শিল্প-৬২৪১) ন্যূনতম লোডের চেয়ে কম লোডে গ্যাস ব্যবহার করতো তাহলে উপরোক্ত ২টি প্রতিষ্ঠান (আবুল খায়ের স্টিল ও ক্যাটিভ পাওয়ার) ন্যূনতম গ্যাস বিল আদায়ের বিষয়টি আসত। ন্যূনতম লোডে বকেয়া গ্যাস বিলের পরিমান ২টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে প্রায় ১২ কোটি টাকা অনাদায়ী রয়েছে তার চেয়ে অধিক হতো। আবুল খায়ের লি: (শিল্প-৬২৪১ কথিত চালনা ধাঁচ আড়ালে লোড বৃদ্ধি অনুমোদন ব্যতিত পূর্বের অনুমোদিত মাসিক লোডের চেয়ে বেশি লোডে গ্যাস ব্যবহার করা বিষয়টি অবগত থেকেও অবৈধ সুবিধা নিয়ে এড়িয়ে গেছে কেজিডিসিএল।

বাংলাদেশ গেজেট (গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী-২০১৪) মোতাবেক বিল ইস্যুর তারিখ হতে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে গ্যাস বিল ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করলে গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ অস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা যাবে। আবুল খায়ের গ্রুপের ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে প্রায় ৪ বৎসরের অধিক সময়কাল পর্যন্ত দুইটি প্রতিষ্ঠানের (শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ার) প্রায় ১২ কোটি টাকা বকেয়া থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। যা বাংলাদেশ গেজেট, গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী-২০১৪ এর পরিপন্থী। এছাড়া, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র ছাড়া অনুমোদন হয়ে যাওয়ার আগেই আবুল খায়ের গ্রুপের শিল্প-৬৩১১, ক্যাপটিভ পাওয়ায় খাতে হাই প্রেসার লাইনে গ্যাস সরবরাহ প্রদান করার প্রমাণ উঠে এসেছে।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা লিখেছেন, গ্যাস বিপণন নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহককে নির্ধারিত ছকে আবেদন সংগ্রহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট জোন/কার্যালয়ে প্রধানের নিকট জমা প্রদান করবেন। সংশ্লিষ্ট নথি তিনটি পর্যালোচনায় দেখায় যায়, আবুল খায়ের গ্রুপ এ জাতীয় কোন আবেদন করেননি। আবেদন না করে ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান ও লোড বৃদ্ধি সংক্রান্ত তৎসময়ে উচ্চতর কমিটির আহবায়ক ও প্রধান মন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক এলাহীকে পাশ কাটিয়ে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৮ ঘন মিটার লোড বৃদ্ধির করে নেন। আবুল খায়ের গ্রুপ অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়া সত্ত্বেও ১২ কোটি টাকা বকেয়া গ্যাস বিল দিচ্ছেন না।

আবুল খায়ের গ্রুপের বক্তব্যের জন্য চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া সম্ভব হয় নাই।

সূত্র: বার্তা ২৪

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles