13.4 C
Toronto
রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪

ভূমি কর্মকর্তার ঘুসের ভিডিও ভাইরাল (দেখুন ভিডিও)

ভূমি কর্মকর্তার ঘুসের ভিডিও ভাইরাল (দেখুন ভিডিও) - the Bengali Times

ঘুস ছাড়া কোনো কাজ করেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আলমগীর মিঞা চৌধুরী ও তার সহকারী একেএম মনির হোসেন।

- Advertisement -

সম্প্রতি তার একটি ঘুসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

অনিয়ম, ঘুস, দুর্নীতি, হয়রানি, জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ওই তহশিলদারের বিরুদ্ধে। ভূমি অফিসের চৌকাঠ পেরোলেই তহশিলদারের সিস্টেম (নিজের করা আইন) মানতে হয় ভূমিসেবা নিতে সাধারণ মানুষকে। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই ওই ভূমি কর্মকর্তা স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রকে লেলিয়ে দেন সেবা নিতে আসা লোকজনের ওপর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

লিখিত অভিযোগে ভলাকূট ইউনিয়নের ভলাকুট গ্রামের শাশীম আহম্মেদ অভিযোগ করেন, জমির খাজনা বাবদ (ভূমি উন্নয়ন কর) ১০ টাকার রশিদ দিলে তাকে দিতে হয় ২/৩ হাজার টাকা। সাধারণ নামজারির জন্য ১১৭০ টাকার সরকারি ফির পরিবর্তে ৭/৮ হাজার টাকা দিতে হয়। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একই এলাকার মো. আবু তাহের মিয়া বলেন, আমি তিনটি দলিলের জায়গা একসঙ্গে করতে গিয়েছিলাম। আমার কাছে ৯ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। এত টাকা দেখে আমি আর খারিজ করিনি।

আরেক ভুক্তভোগী মো. উঙ্গু মিয়া জানান, আমার দুটি জায়গা খারিজ করতে গেলে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এত টাকা দেখে আমি আজও খারিজ করিনি।

এদের মতো একই অভিযোগ ওই ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা বেশিরভাগ মানুষের। নাম খারিজের বেলায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা হলেও অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাগজের অজুহাতে পড়ে থাকে আবেদন।

দাবিকৃত ঘুসের অর্থ দিতে অস্বীকার করলে নানা টালবাহানা করে জমির মালিকদের হয়রানি করেন। ৩ মার্চ বিকালে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপজেলার ভলাকুট বাজারে তহশিলদার আলমগীর মিঞা চৌধুরী ও তার সহকারী একেএম মনির হোসেনের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।

সম্প্রতি তার একটি ঘুসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে কাকে এ টাকা দিতে হয় তার বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, সিস্টেম হইয়া গেছেগা। সিস্টেমের জন্য হে অত হে অত…। একপর্যায়ে তিনি বলেন, সরকার আইন করছে স্টাইল এইডা।

ঘুসের বিষয়ে জানতে চাইলে তহশিলদার আলমগীর মিঞা চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভিডিওর বিষয়টি বললে, তিনি বলেন অসম্ভব। এ ধরনের কোনো ভিডিও নেই। পরে ভিডিওটি দেখালে তিনি নিশ্চিত করেন ভিডিওর ব্যক্তিটি তিনি। তার দাবি এখানে তার কথা কাটছাঁট করা হয়েছে।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেহেদি হাসান খান শাওন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উনার ভিডিওটি আমি শুনেছি, যা আমাদের অফিসের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর।

উল্লেখ্য, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আলমগীর মিঞা চৌধুরী বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির আলমগীর-হেলাল-মুজিব পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার সভাপতি প্রার্থী। তার গ্রামের বাড়ি জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরের দেওড়া গ্রামে। বর্তমানের তিনি মধ্য মেড্ডায় নিজ ফ্ল্যাটে থাকেন। একই বিল্ডিং তার আরও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য ৪০-৫০ লাখ টাকা।

সূত্র: যুগান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles