7 C
Toronto
রবিবার, মার্চ ৩, ২০২৪

জামায়াতে ইসলামীর নাম পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই

জামায়াতে ইসলামীর নাম পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই - the Bengali Times

জামায়াতে ইসলামীর নাম পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না দলটির নেতারা। তারা বলেন, এ নিয়ে দলের মধ্যে দুটি পক্ষ এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী ছাত্রশিবির থেকে জামায়াতে আসা নেতাদের বেশিরভাগই জামায়াতের নাম পরিবর্তনসহ দলে গঠনমূলক সংস্কার আনার পক্ষে। আর মুক্তিযুদ্ধপূর্ববর্তী পুরনো নেতারা দলের নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে।

- Advertisement -

দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থায় গেলে চাপে থাকা জামায়াত ২০১৯ সালের প্রথম দিকে দলের নাম পরিবর্তন ও সংগঠনে সংস্কার আনতে ডা. শফিকুর রহমানের (বর্তমান আমির) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে।

জানা গেছে, ওই কমিটির কার্যক্রম নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। তরুণ নেতাদের ধারণা, বর্তমানে শীর্ষপর্যায়ে যেসব পুরনো বা বয়স্ক নেতা রয়েছেন, তারা যতদিন দায়িত্বে থাকবেন ততদিন ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ নামটি পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই। শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটির কার্যক্রম সম্পর্র্কে জানতে

চাইতে চাইলে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জামায়াতের নাম পরিবর্তনের জন্য কখনো কোনো কমিটি করা হয়নি। এটি নিয়ে একটি বিভ্রান্তি রয়েছে। কমিটি করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নির্বাচনপরবর্তী ভয়াবহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে যাওয়া যায়, জনগণকে কীভাবে মুক্ত করা যায় তা নিয়ে। কমিটির সেই কাজ চলছে।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন পর কারাগার থেকে জামায়াতের তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান (মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর) এক চিঠিতে প্রস্তাব করেছিলেন- যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন দায়িত্বশীলদের হাতে জামায়াতকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি একাধিক বিকল্পের মধ্যে দল হিসেবে জামায়াতের নামও বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই থেকে জামায়াতের নাম পরিবর্তন নিয়ে দলটির ঘরে-বাইরে নানা আলোচনা হতে থাকে।

ওই অবস্থায় সেই সময় মতিউর রহমান নিজামীর (মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর) পরিবারসহ তখনকার জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাধার কারণে সেটি আর এগোয়নি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলের তরুণ নেতৃত্বের একটি অংশ নতুন করে ওই প্রস্তাব ও আলোচনা সামনে আনে। সংস্কারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন দলটির তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। কোনো সম্ভাবনা দেখতে না পেয়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগও করেন। পদত্যাগের পেছনে তিনি দুটি কারণ উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়, জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি। একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার আলোকে ও অন্যান্য মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিবেচনায় এনে দলটি নিজেদের সংস্কার করতে পারেনি।

এর কয়েক দিন আগে শিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মঞ্জু একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। পরে মঞ্জু নিজে সদস্য সচিব হয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই পার্টির উপদেষ্টা হন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। মঞ্জুর আহ্বানে তখন সারাদেশ থেকে জামায়াতের সংস্কারপন্থিরা তার সঙ্গে যোগ দেন।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ওই সময়ে জামায়াতের নির্বাহী কর্মপরিষদ এবং শুরার বৈঠকও হয়। ওইসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগের পর দল সংস্কার করা না করার প্রশ্নে সুপারিশ তৈরির জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মঞ্জুকে ঠেকাতে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ওই কমিটি হয়েছিল। সেই কমিটি তখন বৈঠকও করেছিল।

ওই পরিস্থিতিতে তখন জামায়াতপন্থি বুদ্ধিজীবী শাহ আব্দুল হান্নান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, বিশ্বব্যাপী একটা নতুন চিন্তা এসেছে, রাজনীতি আর দাওয়াত বা রাজনীতি ও প্রচারকে আলাদা করা। যেমন- তিউনিসিয়া, মিসর ও তুরস্ক করেছে। এটি নিয়ে চিন্তা হচ্ছিল তাদের মধ্যে। সেই দিকটি সামনে রেখে তারা নতুন পার্টির চিন্তা করছেন। আমি তাদের যতটুকু জানি বা বুঝি, তাতে তারা (জামায়াত নেতারা) নতুন পার্টি করে ফেলবেন।

জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, জামায়াতের নাম পরিবর্তন বা দলের মধ্যে সংস্কার আনতে ওই সময় যে কমিটি করা হয়েছিল, তখনকার প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট এক নয়। তখন একদিকে সরকারের চাপ, অন্যদিকে দল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কারণ ব্যারিস্টার রাজ্জাক জামায়াতের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় একজন নেতা। সব দিক বিবেচনা করে তখন দলের নাম পরিবর্তন ও সংস্কার আনার কথা বলে কমিটি গঠন ছিল পরিস্থিতি সামাল দিতে আইওয়াশ মাত্র।

বর্তমানে ওই কমিটির কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে। চাপে পড়ে জামায়াত রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করে সামাজিক কার্যক্রম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। সেখান থেকেও সরে এসে এখন রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছে জামায়াত। এর পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সূত্র: আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles