
‘আমার চারপাশে অনেক পুরুষ মানুষ, খুব ভয় করছে।’ পরিবারের কাছে পাঠানো ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর এটাই ছিল শেষ বার্তা। এরপরই তার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর নির্জন রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ।
ভারতের আসামের কামরূপ জেলার এই তরুণী ছিলেন একজন নৃত্যশিল্পী ও গুয়াহাটির বি বরুয়া কলেজের শিক্ষার্থী। একটি নাচের দলের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথে একাই বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার।
আগামী ১০ অক্টোবর গুয়াহাটিতে ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় আগেভাগেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তরুণী। ট্রেনে ওঠার পর পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখছিলেন তিনি।
স্বজনদের দাবি, ট্রেনের কামরায় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তরুণী। একপর্যায়ে পরিবারের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানান, চারপাশে অনেক পুরুষ থাকায় তার ভয় লাগছে।
এরপর ৬ অক্টোবর ভোরের পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রেলওয়ে পুলিশ ও হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা হয়। শুরু হয় তল্লাশি। পরে ট্রেনের ‘এস-টু’ বগি থেকে তার ব্যাগ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এর কিছুক্ষণ পর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার মালয়াপুরম এলাকার নির্জন রেললাইনের পাশ থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, চলন্ত ট্রেন থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন অপেক্ষা করছে পুলিশ। পাশাপাশি বিশাখাপত্তনম স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে ট্রেনে ওঠার আগে তরুণীর সঙ্গে দেখা যাওয়া এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তরুণীর শেষ বার্তার আতঙ্ক, এরপর হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নির্জন রেললাইনের পাশে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না পুলিশ।

