
১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এই সময়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে এসেছে অসংখ্য নতুন মুখ, তৈরি হয়েছে বহু তারকা। কিন্তু ঐশ্বরিয়ার জনপ্রিয়তায় যেন ভাটা পড়েনি। বরং নতুন প্রজন্মের তারকাদের ভিড়েও তাকে ঘিরে এখনো তৈরি হয় তুমুল আগ্রহ।
এর সর্বশেষ উদাহরণ ২০২৬ সালের প্যারিস ফ্যাশন উইক। লরিয়াল প্যারিসের আয়োজনে কালো ভেলভেটের পোশাক, ক্রিস্টালখচিত কেপ, মাথায় টায়ারা এবং বারগান্ডি-লাল চুলে র্যাম্পে হাজির হন ঐশ্বরিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন কেন্ডাল জেনার, সেলিন দিওঁ, ভায়োলা ডেভিস, ইভা লঙ্গোরিয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচিত তারকারা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতিই আলাদা করে নজর কাড়ে।
প্রশ্ন উঠতেই পারে—কেন?
এর উত্তর শুধু তার সৌন্দর্যে খুঁজলে ভুল হবে। ঐশ্বরিয়ার পরিচয় এখন আর শুধু ‘সাবেক বিশ্বসুন্দরী’তে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি অভিনেত্রী, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দূত এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতির পরিচিত মুখ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে হলুদ শাড়িতে উপস্থিত হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে তার উপস্থিতি আলোচনায় আসে। এরপর কখনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক, কখনো পাশ্চাত্য ধাঁচের গাউন, আবার কখনো সাহসী ও ব্যতিক্রমী সাজে দেখা গেছে তাকে। সময়ের সঙ্গে তার সাজ ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু স্বাতন্ত্র্য হারায়নি।
কান চলচ্চিত্র উৎসবেও রয়েছে তার দীর্ঘ উপস্থিতি। ২০০৩ সালে উৎসবটির জুরি সদস্য হন ঐশ্বরিয়া। একই উৎসবে তার অভিনীত ‘দেবদাস’ও প্রদর্শিত হয়। ফলে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ পেরিয়ে চলচ্চিত্র ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ পরিসরেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
ঐশ্বরিয়ার জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় কারণ তার ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি। মুখের অভিব্যক্তি, চোখের দৃষ্টি, পোশাক বহনের ধরন এবং আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে তার একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। কয়েক দশক ধরে এই স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখাই তাকে অন্য অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করেছে।
প্রতি বছরই নতুন সুন্দরী ও তারকারা আলোচনায় আসেন। কেউ মডেলিংয়ে, কেউ অভিনয়ে, আবার কেউ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের জায়গা তৈরি করেন। কিন্তু ঐশ্বরিয়ার পথটি ছিল দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। বিশ্বসুন্দরীর মুকুট থেকে বলিউড, সেখান থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসব, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং বিশ্ব ফ্যাশনের মঞ্চ—প্রতিটি জায়গাতেই তিনি নিজের পরিচয়ের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
তাই ৩২ বছর পরও ঐশ্বরিয়াকে ঘিরে উন্মাদনার কারণ কেবল সৌন্দর্য নয়। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলানো, আন্তর্জাতিক পরিসরে ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং নিজের স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার ক্ষমতাই তাকে এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।

