
আইনজীবীর খরচ বহন করতে না পেরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে করা ৪০ হাজার পাউন্ডের মামলা জিতেছেন যুক্তরাজ্যের এক দমকলকর্মী। নিজেই আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন হিথ্রো বিমানবন্দরে কর্মরত ৪০ বছর বয়সী ক্রেইগ টিচেনার। মামলা পরিচালনার বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া বুঝতে তাকে সহায়তা করে চ্যাটজিপিটি।
ঘটনার শুরু ২০১৯ সালে। ওই বছর লটারিতে ২ লাখ পাউন্ড জেতেন ক্রেইগ। পরে ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেমিকা ৩৭ বছর বয়সী হিদার ডগলাসকে ৪০ হাজার পাউন্ড বিনিয়োগের জন্য দেন। পেশায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকর্মী হিদারের সঙ্গে ক্রেইগের চুক্তি ছিল, তিনি ওই অর্থ প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করবেন এবং সেখান থেকে পাওয়া মুনাফা দুজন ভাগ করে নেবেন।
তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান হিদার। তার দাবি, ক্রেইগ ওই অর্থ তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্রেইগের বিরুদ্ধে হয়রানি ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজেই মামলাটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন ক্রেইগ। এ সময় আদালতের প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ থেকে শুরু করে মামলার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন তিনি।
সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি কোর্টে শুনানির সময় হিদার ওই ৪০ হাজার পাউন্ড উপহার হিসেবে পাওয়ার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা ব্যাংক হিসাবের বিবরণ দিতে পারেননি। পরে আদালত ক্রেইগের পক্ষে রায় দেন।
ক্রেইগ বলেন, নিজে মামলা পরিচালনা করা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল। তবে চ্যাটজিপিটির সহায়তা না পেলে মামলায় জয়ী হতে পারতেন কি না, তা নিয়ে তার যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

