
যশোরের মনিরামপুরে স্ত্রীর সঙ্গে এক প্রবাসীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই স্ত্রীকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন এক যুবক। এমনকি বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবেও স্বাক্ষর করেন তিনি। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর নিজ বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে এবং পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।
স্বজনদের দাবি, মিথুনের স্ত্রী সাথী (২৬) মালয়েশিয়াপ্রবাসী সুমনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মিথুন স্ত্রীকে বুঝিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। পরে দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজেই সুমনের সঙ্গে সাথীর বিয়ে দেন।
মিথুনের চাচা এনায়েত হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের পর সাথী ও সুমনের চাপে মিথুন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর দাবি, সুমনের পরামর্শে সাথী মিথুনকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে মধুপুর গ্রামের সাথীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মিথুন। তাঁদের ছয় ও চার বছর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে। মিথুন ও সুমন ছোটবেলা থেকেই পরস্পরের পরিচিত ছিলেন। প্রায় চার বছর আগে সুমন মালয়েশিয়ায় চলে যান।
সাথীর ভাষ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর মিথুন তাঁকে সুমনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজি অফিসে নিয়ে সুমনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। ওই বিয়েতে মিথুন নিজেই সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
মিথুনের মা রওশনারা দাবি করেন, রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে সাথী এসে জানান, তাঁর ছেলে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর সন্দেহ, মিথুনকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
তবে সাথী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মিথুন নিজেই গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
মিথুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মুবাশশের আল মুবিন বলেন, মৃত্যুর তিন দিন আগে মিথুনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছিল। মিথুন ফোনে কারও সঙ্গে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাইছিলেন। তাঁর কাছে মিথুন বলেছিলেন, স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।
মালয়েশিয়ায় থাকায় সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন বলেন, মিথুনের মৃত্যুর পর বিষয়টি জানতে পেরে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সুমন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

