
একটি চিঠি। লেখা হয়েছিল ৪৪ বছর আগে। লেখক তখন মাত্র ১০ বছরের কিশোরী। ভবিষ্যতের কোনো এক অচেনা মানুষের জন্য বাড়ির সিঁড়ির ভেতরের ফাঁকা জায়গায় চিঠিটি লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এত বছর পর বাড়ির সংস্কারকাজ করতে গিয়ে সেই চিঠিই খুঁজে পেলেন এক নির্মাণকর্মী।
ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের এসেক্সের হকলির। পরে চিঠিটি বাড়িটির বর্তমান বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী মিশেল হারউডের হাতে পৌঁছায়। চিঠিটি পড়ে বিস্মিত হয়ে লেখককে খুঁজতে স্থানীয় একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোষ্ঠীতে পোস্ট দেন তিনি।
বিস্ময়করভাবে, পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় কয়েকজন চিঠিটির লেখককে শনাক্ত করেন। তিনি র্যাচেল মাইলস। বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী মাইলস বাকিংহামশায়ারের মিল্টন কেইন্সে শিক্ষকতা করছেন। খবরটি জানার পর তিনিও নিশ্চিত করেন, চিঠিটি তাঁরই লেখা।
মাইলস জানান, চিঠিটি লিখেছিলেন ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট। সে সময় জনপ্রিয় শিশুদের অনুষ্ঠান ‘ব্লু পিটার’-এর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে সময়ের বাক্স বা ভবিষ্যতের জন্য স্মৃতি রেখে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। একদিন তাঁর বাবা বাড়ির সিঁড়ির পেছনে একটি ফাঁকা জায়গা দেখতে পান। তখনই সেখানে ভবিষ্যতের কারও জন্য চিঠি রেখে দেওয়ার ভাবনা আসে।
চিঠির শুরুতে লেখা ছিল—‘যিনি এটি খুঁজে পাবেন, তাঁর উদ্দেশে’। লেখাটি দেখেই হারউডের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। কারণ, চিঠিটি যখন লেখা হয়েছিল, তখন তাঁর জন্মই হয়নি।
হারউড বলেন, এত বছর ধরে বাড়িটির ভেতরে চিঠিটি লুকিয়ে ছিল—এ কথা ভাবতেই তাঁর কাছে ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। লেখককে খুঁজে পাওয়ার আশা একসময় প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই সেই হারানো যোগসূত্র ফিরিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, পুরোনো চিঠি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত মাইলসও। তাঁর কাছে এটি যেন শৈশবের একটি দরজা হঠাৎ খুলে যাওয়ার মতো। চার দশকেরও বেশি আগের সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে আসার পাশাপাশি পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গেও নতুন করে যোগাযোগ হয়েছে তাঁর।
চিঠিতে পরিবারের কারও কথা না লিখে মাইলস শুধু তাঁর পোষা বিড়াল ‘কিজি’র কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, কিজি তখন ওই এলাকারই এক ‘কিংবদন্তি’ ছিল।
সবচেয়ে মজার বিষয়, হারউড ও মাইলস—দুজনেরই ওই বাড়িতে থাকার সময় পোষা বিড়াল ছিল। চার দশকের ব্যবধান পেরিয়ে একটি ছোট্ট চিঠি শুধু তার লেখককেই ফিরিয়ে আনেনি, একই সঙ্গে একটি পুরোনো বাড়ির দেয়ালের ভেতর লুকিয়ে থাকা শৈশবের স্মৃতিকেও ফিরিয়ে দিয়েছে।

